• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পিকনিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ প্লাস্টিক, সিদ্ধান্ত বৈঠকে

Plastic
ছবি: সংগৃহীত

পিকনিকের মরসুমে দূষণের মাত্রা অনেক বেড়ে যায় দুর্গাপুর ব্যারাজের মতো জায়গায়। প্লাস্টিক, থার্মোকলের দূষণ তো আছেই, সঙ্গে ডিজে বক্সের দৌরাত্ম্য। এ বার যাতে ব্যারাজ-সহ দুর্গাপুর মহকুমার নানা পিকনিকের জায়গা দূষণমুক্ত থাকে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে আশ্বাস মহকুমা প্রশাসনের। এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে মঙ্গলবার একটি বৈঠক করা হয়েছে। বেচাল দেখলে কড়া ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মহকুমাশাসক অনির্বাণ কোলে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পিকনিকের সময়ে দূষণ আটকাতে ‘গ্রিন পিকনিক মিশন’ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বন দফতর, পুলিশ, পরিবেশ, পুরসভা, ডিভিসি, দুর্গাপুরের বিভিন্ন ব্লক ও বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লক প্রশাসন এবং একটি বন্যপ্রাণ বিষয়ক সংগঠনকে নিয়ে বৈঠক করেন মহকুমাশাসক। ওই সংগঠনটি গত কয়েক বছর ধরে পিকনিকের মরসুমে পরিবেশ সচেতনতার কাজ করে আসছে। ২০১৮ সালে বড়দিনের সময়ে দুর্গাপুরের দু’টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘গ্রিন পিকনিক মিশন’ শুরু করে। এ বার প্রশাসনের সঙ্গে তারা কাজ করবে বলে ঠিক করেছে সংগঠনটি। ব্যারাজে পিকনিকের জায়গার একাংশ যেহেতু বড়জোড়া ব্লকের মধ্যে পড়ে, তাই সেখানকার প্রশাসনকেও বৈঠকে ডাকা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পিকনিকের সময়ে উচ্চগ্রামে দেদার সাউন্ডবক্স বাজে। কান পাতা দায় হয়। চড়া শব্দে বিপাকে পড়ে পশু-পাখিরাও। পিকনিকের পরে, এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকে প্লাস্টিক, থার্মোকলের পাতা, গ্লাস ইত্যাদি। এর ফলে আশপাশের এলাকার মাটি, নদীর জল দূষিত হয়। 

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে ঠিক হয়েছে, এ বার প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। পরিবর্তে শালপাতা, কলাপাতা ব্যবহার করতে হবে। কারণ, সেগুলি সহজে মাটিতে মিশে যায়। স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর তৈরি করা পরিবেশবান্ধব থালা, বাটি কিনবেন পিকনিকে আসা মানুষজন। তাতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীগুলিরও আয় হবে। পিকনিকের বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার করতে হবে। সে জন্য বর্জ্য ফেলার মোবাইল ভ্যান রাখা থাকবে। পরিবেশবান্ধব শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হবে। শব্দদূষণ রুখতে ডিজে সাউন্ডবক্স নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মানুষকে এ সব বিষয়ে সচেতন করতে বোর্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি ‘গ্রিন ভলান্টিয়ার’রা নজরদারি চালাবেন। মহকুমাশাসক জানান, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি নিজের মতো করে নজরদারি চালাবে। কোনও বিচ্যুতি নজরে এলেই ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ‘‘পরিবেশ বাঁচাতে সচেতনতা প্রচারের সঙ্গে কড়া ব্যবস্থার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন