‘গান’ (বন্দুক) দেখে ভয় পান না তাঁরা। কিন্তু রাতভর ডিউটিতে ‘গান’ শুনে ত্রাহি ত্রাহি রব তুলেছেন তাঁদের অনেকেই। 

পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ওই পুলিশকর্মীদের দাবি, মাঝরাতে বর্ধমান-কাটোয়া রোডের উপর ৬ মাইল বাসস্টপের কাছে অসংলগ্ন অবস্থায় ঘুরতে দেখে উদ্ধার করে আনা হয়েছিল এক তরুণীকে। রবিবার রাত থেকে সোমবার সারা দিন তিনিই গলা ছেড়ে সাঁওতালি ভাষায় অনর্গল গান গেয়ে চলেছেন। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না তাঁকে। 

রাতভর ওই মহিলাকে পাহারা দিয়েছেন এক মহিলা পুলিশকর্মী ও দুই সিভিক ভলান্টিয়ার। তাঁদের কথায়, “গান শুনেছি, আর মনে মনে বলেছি, রক্ষা কর প্রভু। ডিউটির শেষে কান দু’টো রক্ষা পেয়েছে।’’

এখানেই শেষ নয়, পুলিশ জানিয়েছে, গান ছাড়াও মাঝেমধ্যে চিৎকার করে উপরের দিকে তাকিয়ে কথা বলা, আবার পর ক্ষণেই ঘর থেকে চেয়ার টপকে পালানোর চেষ্টা করেছেন ওই তরুণী। মাঝে মধ্যে হাতজোড় করে সাঁওতালি ভাষায় কথাও বলেছেন। ওসি প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পর্যাপ্ত খাবারদাবার দিয়ে যত্নে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে ওই তরুণীকে। সাঁওতালি ভাষা জানেন এমন এক জনকে এনে তাঁর বাড়ি বা পরিচয় জানারও চেষ্টা করা হচ্ছে। তার পরেও ঠিকঠাক কোনও তথ্য না পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগেও ভাতার থানার পুলিশ বেশ কয়েকজন মহিলাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে পরিজনদের হাতে তুলে দিয়েছে। কিন্তু কোনও বারই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁদের। এক এসআই বলেন, “রাতে নিয়ে আসার পর পর বেশ শান্তই ছিলেন। খাওয়ার পরে সাঁওতালি ভাষায় গান শুরু করেন। ভেবেছিলাম ঘুমিয়ে পড়বেন। কিন্তু যত রাত বাড়ল তত বাড়ল গানের গুঁতো!’’