ফের কাটমানি ফেরতের দাবিতে পোস্টার পড়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের সচিবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে পড়েছে পোস্টার। বৃহস্পতিবার সকালে পোস্টারগুলি দেখার পরেই ওই সচিব শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার উপাচার্য নিমাই সাহাকে বিস্তারিত ভাবে বিষয়টি জানান। তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে সচিবের ঘর, ক্যান্টিনের পাশে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট-সহ ১৩টি জায়গায় শুভপ্রসাদবাবুর দুর্নীতি নিয়ে পোস্টার পড়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, ‘ছাত্র ভোগানোর কারিগর শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদারের অবিলম্বে শাস্তি চাই’। আবার কোনও পোস্টারে লেখা, ‘অ্যাডমিটে ভুল করার কারিগরের শাস্তি চাই’। জানতে চাওয়া হয়েছে, ‘অফিসের সময় ঘরে থাকেন না কেন?’ ২০১৮-২০ শিক্ষাবর্ষে এম ফিলে ভর্তি নির্দিষ্ট সময়ে করা গেল না কেন, সে নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স সংগঠন সূত্রে জানা যায়, এই সমস্ত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএমসিপি-র নেতাদের সঙ্গে সংঘাত বেধেছিল বিজ্ঞান বিভাগের ফ্যাকাল্টি-সচিব শুভপ্রসাদবাবুর। গায়ে হাত তোলারও অভিযোগ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও চিঠি পাঠানো হয়। এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন রাজবাটীতে দাঁড়িয়ে শুভপ্রসাদবাবুর দাবি, “এই সব পোস্টার কারা মেরেছে বোঝাই যাচ্ছে। এ সব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছিল। আসলে স্নাতকোত্তরে ভর্তির নিয়ম কড়াকড়ি করা হয়েছে। গৃহস্থের ঘরে তালা বদলালে চোরের তো রাগ হবেই!’’ 

ছাত্রনেতারা এ নিয়ে কোনও কথা বলতে চাননি। টিএমসিপির জেলা সভাপতি মহম্মদ সাদ্দামের দাবি, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদাসীন বলেই ছাত্রছাত্রীরা পোস্টার মেরেছে। এ বার প্রকাশ্যে আন্দোলন করবে।’’

এ দিন যে ছাত্রনেতার নামে পোস্টার পড়েছে আগেও তাঁর নামে ভর্তিতে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টিএমসিপি-র তরফে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।