এক পাশ খোলা রেখেই রাস্তা সংস্কার শুরু হতে চলেছে দুর্গাপুর ব্যারাজে। কাল, সোমবার থেকে পাঁচ দিন কাজ চলবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সে জন্য ব্যারাজের উপর দিয়ে কোনও ভারী গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। ঘণ্টায় দশ কিলোমিটার গতিতে হালকা গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

শনিবার বড়জোড়া ব্লক দফতরের সভাগৃহে দুর্গাপুর ব্যারাজের রাস্তা সারাই নিয়ে বৈঠক হয়। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার থেকে অর্ধেক রাস্তার সারাই শুরু হবে। প্রথম দফার কাজ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফা কবে শুরু হবে, তা জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে। বড়জোড়ার বিডিও ভাস্কর রায় বলেন, “ব্যারাজে কাজ চলাকালীন মালবাহী গাড়ি ছাড়া বাকি যানবাহন নির্দিষ্ট গতিতে চলাচল করতে পারবে।’’ 

কয়েক মাস ধরেই দুর্গাপুর ও বাঁকুড়ার মাঝে এই ব্যারাজের উপরের রাস্তা বেহাল হয়ে রয়েছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় অনেক সময়ে ভারী যানবাহন খারাপ হয়ে পড়ছে। তার ফলে ব্যারাজে তীব্র যানজট হচ্ছে। রাস্তা সারাইয়ের দাবি জানাচ্ছিলেন যাত্রীরা। সে জন্য প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে কাজ শুরুর পরিকল্পনা করেছিল দামোদর ইরিগেশন সার্কেল। এ ক্ষেত্রে ব্যারাজে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেই কাজ করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন ওই সার্কেলের আধিকারিকেরা। যদিও এ দিন বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রাস্তার এক পাশ খোলা রেখেই কাজ করা হবে। 

তবে পুজোর মুখে এই কাজ হওয়ায় ব্যারাজে যানজটের সমস্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা যাত্রীদের অনেকের। বড়জোড়ার থানাগড়ার বাসিন্দা শুভজিৎ ঘোষ বলেন, “পেশাগত কারণে প্রতিদিন দুর্গাপুরে যাই। এ ছাড়া ছেলেদের পড়াশোনা থেকে সাংসারিক নানা কাজেও দুর্গাপুর যাতায়াত করতে হয়। সারাইয়ের জন্য যাতে ব্যারাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে না হয় যাত্রীদের, প্রশাসনের তরফে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’’

পুলিশের আশ্বাস, যানজট রুখতে বিভিন্ন জায়গায় যানবাহনে নজর রাখা হবে। ব্যারাজের দু’পাশেই যথেষ্ট সংখ্যায় পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হবে। দু’দিকের মুখ থেকে পাঁচশো মিটার দূর থেকেই যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ ছাড়া ব্যারাজের রাস্তায় কোনও গাড়ি বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লে দ্রুত সেটিকে উদ্ধার করার ব্যবস্থাও থাকবে।

বাঁকুড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুখেন বিদ, বড়জোড়া পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অলক মুখোপাধ্যায় বলেন, “ব্যারাজে যানজট হলে মানুষ কতটা ভোগান্তিতে পড়েন, তা আমরা জানি। তাই পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও তৈরি থাকবে যে কোনও পরিস্থিতির জন্য।’’ দুর্গাপুর পুরসভার ৪ নম্বর বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন এই রাস্তা সংস্কারের দাবি ছিল। কাজটা হওয়া খুব জরুরি। যাত্রীদের সুবিধায় আমাদের দিক থেকে যে ভাবে সহযোগিতা করার তা করা হবে।’’