• নীলোৎপল রায়চৌধুরী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

যথেচ্ছ বালি তোলায় জল মিলছে কম

বর্ষায় বালি তোলা বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু বালির ট্রাক ছুটছেই জেলার নানা প্রান্তে। বেআইনি বালি কারবারের জেরে বিভিন্ন জলপ্রকল্প সঙ্কটে, নানা রাস্তা ভাঙছে বলে অভিযোগ। কী বলছেন শিল্পাঞ্চলবাসী, কী ভাবছে প্রশাসন, খোঁজ নিল আনন্দবাজার।

Sand Mining
নারায়ণকুড়িতে দামোদরে বালি তোলা যন্ত্র দিয়ে। নিজস্ব চিত্র।

অজয়-দামোদর থেকে বালি পাচারের জেরে রাস্তা খারাপ হচ্ছে বলে বারবার ক্ষোভ জানান নানা এলাকার বাসিন্দারা। তবে বেআইনি বালি কারবারের জেরে শুধু রাস্তা নয়, বিভিন্ন জলপ্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ। 

জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের আসানসোল ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের মোট ১২টি জলপ্রকল্প রয়েছে। তার মধ্যে কল্যাণেশ্বরী প্রকল্পটি মাইথন বাঁধের জলে চলে। বাকি সব ক’টি অজয় ও দামোদরে জলাধার তৈরি করে চলছে। দুই নদীতেই বছরের অনেকটা সময় যথেষ্ট জল থাকে না। ভূগর্ভের জলই ভরসা। সে জন্য নদীর তলা ১৮-২০ ফুটের স্টেনার পাইপ দিয়ে জল তোলা হয়।

জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের আধিকারিকদের অভিযোগ, যথেচ্ছ বালি তোলার জেরে জল প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। কারণ, পাড় লাগোয়া এলাকা থেকে নদীর মাঝামাঝি পর্যন্ত গভীর করে বালি কেটে নেওয়া হচ্ছে। গত বছর দশেকে এর ফলে নদীতে বালির স্তর বেশ কমে গিয়েছে। স্টেনার পাইপগুলির অর্ধেকের বেশি অংশ বাইরে বেরিয়ে এসেছে। তাতে গরমে জল পেতে সমস্যা হচ্ছে। আবার বর্ষায় পাইপের উপরের দিকে নোংরা, ঘোলা জল ঢুকে যাচ্ছে। সে জন্য বিশেষ নজরদারি চালাতে হচ্ছে। 

ওই দফতরের আধিকারিক সুব্রত রায় বলেন, “অতীতে জল প্রকল্পগুলিতে দৈনিক ৬-১২ হাজার গ্যালন জল তোলা হত। এখন বর্ষার সময় ছাড়া ৪-৬ হাজার গ্যালন জল তোলা যাচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বেআইনি ভাবে বালি তোলা বন্ধ করার জন্য আবেদন জানিয়েছি।’’ এর ফলে নদের গতিপথ পাল্টে যেতে পারে, আশঙ্কা তাঁদের।

বিরোধীরা বালি পাচারের জন্য দুষছে শাসকদলকেই। বিজেপি নেতা জয়ন্ত মিশ্র, সিপিএম নেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়দের অভিযোগ, তৃণমূলের প্রত্যক্ষ মদতে বেআইনি বালি কারবার চলছে। মাঝে-মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালানো হয় বলেও তাঁদের দাবি। তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারি অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে জানান, ‘‘বালি পাচার বন্ধ করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে।’’

জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর সূত্রেরও দাবি, বালি তোলার বরাতপ্রাপ্ত সংস্থা অনুমতির চেয়ে বেশি বালি তুলে মজুত করে রাখছে কি না, তা দেখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে ঘাটে। গাড়িতে অতিরিক্ত বালি পাচার হচ্ছে কি না, তা-ও দেখা হচ্ছে। যন্ত্রের সাহায্যে বালি তোলায় নিষেধাজ্ঞা আছে। বেশ কিছু ঘাট থেকে এই রকম যন্ত্র আটক করা হয়েছে। দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক অনির্বাণ কোলে বলেন, ‘‘অগস্টের শুরু থেকে ঘাটে বালি তোলা বন্ধ করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’ আসানসোলের মহকুমাশাসক পিনাকীরঞ্জন প্রধানও বলেন, ‘‘বালি নিয়ে টানা অভিযান চলবে।’’    

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন