এলাকায় নানা সচেতনতামূলক প্রচারের জন্য স্কুলে-স্কুলে তৈরি হয়েছিল ‘কন্যাশ্রী ক্লাব’। ছাত্রীদের নিয়ে তৈরি সেই ক্লাবের তৎপরতায় অনেক নাবালিকার বিয়ে আটকেছে। কন্যাশ্রী ক্লাবের কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এ বার জেলার কো-এডুকেশন স্কুলগুলিতে ছাত্রদের নিয়ে ‘শিক্ষা বাহিনী’ তৈরির নির্দেশ দিল জেলা সর্বশিক্ষা মিশন। বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি দূর করতে এই বাহিনী প্রচার চালাবে। বছরের কোন মাসে কী কর্মসূচি নিতে হবে, তা-ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সর্বশিক্ষা  মিশনের তরফে।

জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘কন্যাশ্রী ক্লাব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদের নিয়ে শিক্ষা বাহিনী তৈরি করা হবে। স্কুলে মিড-ডে মিলের তদারকি থেকে কুসংস্কার দূরীকরণে এলাকায় প্রচারে ভূমিকা নেবে এই বাহিনী।’’ সর্বশিক্ষা অভিযানের জেলা আধিকারিক মৌলী সান্যাল বলেন, ‘‘পণপ্রথা বা শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা নিয়ে শুধু মেয়েদের বোঝালেই হবে না, ছেলেদেরও বোঝাতে হবে। সেই উদ্দেশ্যেই ছাত্রদের নিয়ে এই বাহিনী তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে।’’

বুধবার জেলার কো-এডুকেশন স্কুলগুলিকে এই বাহিনী গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সর্বশিক্ষা মিশনের তরফে। নির্দেশে জানানো হয়েছে, প্রতিটি স্কুলে ১০-১৫ জন ছাত্রকে নিয়ে বাহিনী তৈরি করতে হবে। কো-এডুকেশন স্কুলে শিশু সংসদে ১০ জন সদস্যের মধ্যে সাধারণত পাঁচ জন ছাত্র ও পাঁচ জন ছাত্রী থাকে। ‘শিক্ষা বাহিনী’তে ওই সংসদের পাঁচ ছাত্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাহিনীর মধ্যে এক জন ‘সেনাপতি’ থাকবে। স্কুলের এক জন শিক্ষক বা শিক্ষিকা থাকবেন আহ্বায়ক হিসেবে। স্কুলের বিশেষ সভায় তিন মাস অন্তর বাহিনীর কাজের রিপোর্ট পেশ করতে হবে।

শিক্ষা বাহিনীর কাজের তালিকায় সাইবার অপরাধ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ, শিশুশ্রম রোধ-সহ নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি রাখা হয়েছে। রয়েছে তামাকজাত দ্রব্য, পণপ্রথা, ডাইনি প্রথার বিরুদ্ধে প্রচারের কাজও। কোন মাসে কী কর্মসূচি নিতে হবে, তা-ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কো-এডুকেশন স্কুলগুলিতে এই বাহিনীর কার্যকারিতা দেখে পরে শুধু ছেলেদের স্কুলেও তা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হবে।