ধর্মঘট নিয়ে গত ক’দিন ধরেই বাক্‌যুদ্ধ চলছিল জেলার ধর্মঘট সমর্থক ও তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে। ধর্মঘটের প্রথম দিন মঙ্গলবার জেলার নানা প্রান্তে বাক্‌যুদ্ধ তো বটেই, পথে নেমে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিও দেখা গিয়েছে।

সকাল ৭টা ১০-এ প্রায় তিনশো বাম সমর্থক এলাকায় পৌঁছন। অভিযোগ, পরিবহণকর্মীদের বাস চালাতে বাধা দেওয়া হয়। বন্‌ধ সমর্থকদের বাধা দেন কয়েক জন তৃণমূল কর্মী। দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। কিন্তু সংখ্যায় অনেক কম থাকায় খানিক বাদেই এলাকা ছেড়ে চলে যান তৃণমূল কর্মীরা। লোকো মাঠ লাগোয়া এলাকায় জিটি রোড সিপিএম সমর্থকদের অবরোধের সময়ে একই পরিস্থিতির তৈরি হয়। হাতাহাতির উপক্রম বাধে। পুলিশি হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে। 

দু’পক্ষের হাতাহাতি বাধে রবীন্দ্র ভবন লাগোয়া এলাকায়। সেই সময়ে সিপিএম নেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি মিছিল পথ পরিক্রমা করছিল। গির্জামোড়ের দিক থেকে আসা তৃণমূলের একটি মোটরবাইক মিছিল ঘটনাস্থলে চলে আসে। খানিক বাদে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এডিসিপি (‌‌‌‌‌‌সেন্ট্রাল) সায়ক দাসের নেতৃত্বে পুলিশের কমব্যাট বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিএনআর লাগোয়া তৃণমূল কার্যালয়ের পাশ দিয়ে সিপিএমের মহিলা সমিতির একটি মিছিল যাওয়ার সময়েও গোলমাল বাধে দু’পক্ষে। ধর্মঘট সমর্থক ও তৃণমূলের মধ্যে গোলমাল বাধে অণ্ডালের কাজোড়া বাজারেও। সেখানে বাজার বন্ধের চেষ্টা করা হলে বন্‌ধ সমর্থক ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে গোলমাল বাধে। একই পরিস্থিতি হয় উখড়া বাজারেও। সিপিএমের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রবীর মণ্ডল জানান, উখড়ায় রাজেন সামন্ত-সহ দলের চার জন জখম হন। যদিও তৃণমূলের অণ্ডাল ব্লক সভাপতি অলোক মণ্ডল জানান, এলাকাবাসীই ধর্মঘট সমর্থকদের বাধা দিয়েছেন।

দুর্গাপুরে রেল অবরোধের অভিযোগে ৮৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের প্রথমে কোকআভেন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার প্রতিবাদে থানায় মিছিল করে পৌঁছন সিপিএম নেতা, কর্মীরা। প্রায় একই সময়ে পুরসভার ৪ নম্বর বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলেরও একটি মিছিল থানায় পৌঁছয়। মিছিলকারীদের অভিযোগ, এক মহিলা বামকর্মী সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্‌ধের ভুয়ো ছবি দিয়ে উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে। দু’পক্ষের মধ্যে স্লোগান, পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের থানার গেটের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়। বাইরে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকেন। মহিলা বামকর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। 

রেল অবরোধে ধৃতদের মধ্যে সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য পঙ্কজ রায়সরকার-সহ মোট ১৫ জনকে গ্রেফতার করে থানার তরফ থেকে আসানসোল জিআরপি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের আসানসোল আদালতে নিয়ে যায় জিআরপি। অন্য দিকে বেনাচিতির জলখাবার গলিতে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ প্রায় ১০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকারের বক্তব্য, ‘‘ধর্মঘটের বিরোধিতা করে তৃণমূল বুঝিয়ে দিল, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরোধী নয় ওরা।’’ যদিও তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘হামলার অভিযোগ মিথ্যা। ধর্মঘট ডেকে কোনও সমস্যার সমাধান হয় না।’’