• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

তৃণমূল কার্যালয়ে বৈঠক, মিলল সমাধান

TMC , BCCl
বড়িরা এ খোলামুখ খনি। সোমবার । নিজস্ব চিত্র

অচলাবস্থা কাটল রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা উত্তোলক সংস্থা বিসিসিএল-এর দামাগড়িয়া খনিতে। সোমবার সকাল থেকে খনির স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যস্থতায় রবিবার বিকেলে খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে অবস্থান-বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেন জমিদাতারা। কাজ শুরু হওয়ায় খুশি বিসিসিএল কর্তৃপক্ষ।

দামাগড়িয়া প্রকল্পের বড়িরা এ খোলামুখ খনির জন্য প্রায় ৪০ একর জমি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাই জমি দিয়েছেন। জমির বর্তমান মূল্য ছাড়াও দু’একর জমি পিছু একটি করে চাকরি পাবেন জমিদাতারা।
 
গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে চাচ ভিক্টোরিয়া এরিয়ার দামাগড়িয়া প্রকল্পের বড়িরা এ খোলামুখ খনির কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন শুরু করেছিলেন প্রায় ২০ জন জমিদাতা। তাঁদের অভিযোগ, খনি কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণ করার পরেও সেগুলি রেজিস্ট্রি না করে খননের কাজ শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, আগে ওই জমি রেজিস্ট্রি করতে হবে। অধিগৃহীত জমির মালিকদের চাকরি দিতে হবে। তবেই তাঁরা খনির কাজ চালু করতে দেবেন।
 
সমস্যা মেটাতে গত শুক্রবার জমিদাতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন খনি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অরবিন্দ চট্টরাজ নামে এক তৃণমূল কর্মী নিজেকে কুলটির বিধায়ক ও আসানসোলের মেয়রের ‘প্রতিনিধি’ পরিচয় দিয়ে জমিদাতাদের সমর্থনে আসরে নামেন। তিনি লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এমনকি, জমিদাতাদের সঙ্গে খনি কর্তৃপক্ষের বৈঠকও ভেস্তে দেন বলে অভিযোগ। ওই তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে কুলটি থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন বিসিসিএল কর্তৃপক্ষ। এর পরে, পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। বিসিসিএল-এর তরফে শনিবার জামিদাতাদের ফের চিঠি দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করার আবেদন জানানো হয়। কিন্তু জমিদাতারা চিঠি ফিরিয়ে দিয়ে মুখোমুখি বৈঠকের দাবি তোলেন।
 
এই পরিস্থিতিতে সমাধানের রাস্তা খুঁজে বের করতে হস্তক্ষেপ করেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মহেশ্বর মুখোপাধ্যায়কে দ্রুত সমাধানের রাস্তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ দিকে, জমিদাতারা খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হলেও তাঁরা দাবি তোলেন বৈঠকটি খনি কার্যালয়ের পরিবর্তে তৃণমূল কার্যালয়ে করতে হবে। সেই মতো রবিবার বিকেলে মহেশ্বরবাবুর কার্যালয়ে বৈঠক ডাকা হয়। জমিদাতারা ছাড়াও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিসিসিএল-এর দামাগড়িয়া প্রজেক্ট ম্যানেজার ধর্মেন্দ্র তিওয়ারি। ধর্মেন্দ্রবাবু বলেন, ‘‘জমিদাতাদের দাবিগুলি আগামী এক মাসের মধ্যে মেটানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর পরেই জমিদাতারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। সোমবার সকাল থেকে কাজ শুরু হয়েছে।’’
 

খনি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়োগপত্র সংক্রান্ত জটিলতা নেই এমন বিষয়গুলি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মেটানো হবে। কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। সেগুলি এক মাসের মধ্যে, মেটানো হবে। তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মহেশ্বর মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ‘‘এক মাসের মধ্যে জমিদাতাদের সব সমস্যা না মেটানো হলে ফের আন্দোলন হবে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন