• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অবৈধ খননে বিপাক, নালিশ ইসিএলের কাছে

illegal digging
এখানেই কয়লা কাটা চলছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। নিজস্ব চিত্র

এলাকায় অবৈধ খনন চলছে অভিযোগ করে ইসিএল কর্তৃপক্ষের কাছে তা বন্ধের দাবি জানালেন পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডালের দক্ষিণখণ্ড গ্রামের কিছু জমিমালিক। তাঁদের দাবি, এর আগে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন। ফল না হওয়ায় শুক্রবার ইসিএলের সিএমডি-র দফতরে দাবিপত্র জমা দেন। ইসিএল কর্তৃপক্ষ জানান, অভিযোগ পেয়েই খনন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে

ওই বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রাম থেকে প্রায় পাঁচশো মিটার দূরে কালীপুর যাওয়ার রাস্তার পাশে কয়লা কাটছে এক দল দুষ্কৃতী। সেখানে ১৫টি সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে। তার পরে সেই সুড়ঙ্গ ধরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। তার জেরে লাগোয়া এলাকায় চাষের জমির ভূগর্ভ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। জমিতে জলও মজুত থাকছে না। এলাকার প্রায় সমস্ত কুয়ো ও পুকুরের জলস্তর অনেক নীচে নেমে গিয়েছে। গ্রীষ্মে জল পাওয়া যাবে না বলে তাঁদের দাবি। 

এলাকার জমিমালিক উজ্জ্বল পাল, হীরালাল নন্দী, অমিত মণ্ডল, সন্দীপ দে-রা জানান, প্রতি বছর বর্ষায় তাঁরা চাষ করেন। কিন্তু এ বছর জল না জমায় চাষ করতে পারেননি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ খনির প্রায় তিনশো মিটার দূরে খেলার মাঠ, পুকুর, ইসিএলের কর্মী আবাসন রয়েছে। খননের জেরে অদূর ভবিষ্যতে ধস, ধোঁয়া, আগুন বেরনোর ঘটনা ঘটবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাতে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হবেন বলে তাঁদের দাবি। 

ওই বাসিন্দারা জানান, এর আগে পুলিশ-প্রশাসন ও স্থানীয় বিধায়ক রুনু দত্তকে বিষয়টি জানিয়েছেন তাঁরা। এ দিন ইসিএলের সিএমডি-র কাছে দাবিপত্র দিয়েছেন। স্থায়ী সমাধান না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। বিধায়ক রুনু দত্ত জানান, সম্প্রতি বিষয়টি বিধানসভায় তুলেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘দ্রুত অবৈধ খনন বন্ধ হওয়া দরকার। তা না হলে জনপদ বিপন্ন হবে।’’

এ দিনই অবৈধ খনি বন্ধের দাবিতে রানিগঞ্জের বাঁশরা কোলিয়ারি কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, ইসিএলের বাঁশরা খোলামুখ খনির অদূরে কুয়ো খাদ তৈরি করে কয়লা কাটছে দুষ্কৃতীরা। তাতে তাঁরা আতঙ্কে ভুগছেন। জামুড়িয়ার বাঁকশিমুলিয়ায় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রাস্তার পাশে কয়লা চুরির চেষ্টা করছিল কিছু দুষ্কৃতী। তাঁরা তাতে বাধা দেন। তখনই দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালায় বলে তাঁদের দাবি। 

ইসিএলের সিএমডি-র কারিগরি সচিব নীলাদ্রি রায় বলেন, ‘‘অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশের সাহায্য নিয়ে সিআইএসএফ বাঁশরা ও দক্ষিণখণ্ডে বেআইনি খনন বন্ধ করেছে। কিছু যন্ত্রপাতিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন