• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নাবালিকাকে ধর্ষণের নালিশ, চাপান-উতোর

Molestation
প্রতীকী ছবি।

দোকানে জিনিস কিনে বাড়ি ফেরার পথে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল গ্রামেরই এক যুবকের বিরুদ্ধে। কালনার পূর্ব সাতগাছিয়া পঞ্চায়েতের সুভাষপল্লিতে বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনার পরে, তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে চাপান-উতোর তৈরি হয়েছে। দু’পক্ষই অভিযুক্তকে অপর পক্ষের কর্মী বলে দাবি করেছে। থানায় গিয়ে দু’পক্ষের লোকজনই অভিযুক্তের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পূর্বস্থলীর নাদনঘাটে মঙ্গলবার রাতে এক আদিবাসী বধূকে বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। বুধবার বিকেলে নির্যাতিতার বাড়িতে যান তৃণমূল নেতারা। সেই ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই ধর্ষণের অভিযোগকে ঘিরে তপ্ত হল পূর্ব সাতগাছিয়া এলাকা। বুধবার রাতে সেখানকার সুভাষপল্লির এক মহিলা কালনা থানায় অভিযোগ করেন, সন্ধ্যায় বছর তেরোর মেয়েকে দোকানে কিছু জিনিস আনতে পাঠিয়েছিলেন। সে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা আটকায় এলাকার যুবক সুব্রত হালদার। তার ফোনে চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছে জানিয়ে সেটি কাছাকাছি তার বাড়িতে রেখে আসার অনুরোধ করে। মেয়ে ফোনটি রাখতে গেলে ওই যুবক পিছু নিয়ে বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।

মহিলা অভিযোগ করেন, বাড়ি ফিরে মেয়ে ঘটনার কথা জানালে তিনি কয়েকজন পড়শিকে তা জানান। এর পরে ওই যুবককে ধরেও ফেলেন তাঁরা। কিন্তু কোনও ভাবে সে পালিয়ে যায়। মহিলা বলেন, ‘‘দোষীর কঠোর শাস্তি চাই।’’ ঘটনার খানিক পরেই থানায় পৌছন পূর্ব সাতগাছিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান তাপস সরকার-সহ তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। অভিযুক্ত যুবককে বিজেপি কর্মী দাবি করে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তাঁরা। এর পরেই থানায় যানন বিজেপির স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মী। তাঁরা পাল্টা দাবি করেন, অভিযুক্ত শাসক দলের কর্মী। তাকে গ্রেফতার করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে ফের প্রধান-সহ পূর্ব সাতগাছিয়া পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী থানায় যান। হাজির হন বিজেপি নেতা-কর্মীরাও। উত্তেজনা তৈরি হয় থানা চত্বরে। পুলিশ দু’পক্ষকেই এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। 

এ দিন বিকেলে তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডু ও দলের কালনা ২ ব্লক সভাপতি প্রণব রায় মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। প্রণববাবুর অভিযোগ, ‘‘এলাকা অশান্ত করার জন্য বিজেপি চক্রান্ত করে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। হিংসা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য তারা এই কাজ করছে।’’ অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। দলের জেলা সম্পাদক সুদীপ্ত রায়ের পাল্টা অভিযোগ, ‘‘ওই অভিযুক্ত যুবক তৃণমূলের লোক। ভোটে তার পরিবার শাসক দলের হয়েই কাজ করে।’’ পুলিশ জানায়, এ দিন নাবালিকার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নাদনঘাটে আদিবাসী বধূকে গণধর্ষণের মামলায় ধৃত যুবককে এ দিন কালনা আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন