লোকায়ত গান, নাচ ফিরিয়ে আনা, খেলাধূলায় উৎসাহ দেওয়া থেকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের উৎসবে সামিল করা— কাটোয়ার কার্তিক পুজোয় নানা থিমে সাজা মণ্ডপ দেখতে গিয়ে চোখে পড়বে এই চেষ্টাগুলোও। উদ্যোক্তাদের দাবি, উৎসব শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও সমাজে যাতে তার কিছু ছাপ থাকে, সেই চেষ্টা করছেন তাঁরা।  

কাটোয়া কলেজ পাড়ার নবকল্যাণ সঙ্ঘের পুজো এ বার ২৬ বছরে পা দিল। প্রতি বছর এই ক্লাবের প্রতিমা দেখতে দিন চারেক ধরে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। এ বার এখানকার থিম ‘ধূসর ইতিকথা’। আমড়া, অর্জুন গাছের বীজ দিয়ে সাজানো মণ্ডপে লোকসংস্কৃতির হারিয়ে যাওয়া দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। দর্শকদের জন্য থাকছে ছৌ ও পুতুল নাচের আসর। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির শিল্পী মুকুল দোলাইয়ের ভাবনায় মণ্ডপ সেজে উঠেছে। মণ্ডপের উদ্বোধন হবে চেনা পথ থেকে বেরিয়ে। ক্লাবের সম্পাদক কমল বিশ্বাস জানান, আজ, শুক্রবার বৃহন্নলা পিঙ্কি পুজো উদ্বোধন করবেন। তিনি বলেন, ‘‘তারকা বা নেতা, মন্ত্রীরা তো উদ্বোধন করেনই। এ বার তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের উৎসবের আনন্দে সামিল করতে তাঁদের হাত দিয়েই হবে উদ্বোধন।’’

কলেজ পাড়ার দেশবন্ধু বয়েজ ক্লাবের ভাবনা ‘বিয়ের মণ্ডপ’। ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে তৈরি মণ্ডপটি দেখতে টোপরের মতো। ভিতরে থাকছে বিয়ের নানা উপাচার। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে শাঁখা, পলা, গাছকৌটোর মত বিয়েতে ব্যবহৃত সামগ্রী দিয়ে।

এ বার প্রথম থিমের প্রতিমা করেছে পুরাতনবাজার পুজো কমিটি। এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তাদের থিম ‘হানাবাড়ির হাহাকার’। ভূতের বাড়ির আদলে তৈরি মণ্ডপে নানা রঙের আলো ও আওয়াজ দিয়ে ভয়ের অনুভূতি তৈরি করা হবে। দৃশ্যাঙ্কনের মাধ্যমে মণ্ডপ তৈরি করেছেন শিল্পী করমোহন ঘোষ।

পানুহাটের বারুজীবী পল্লীর ইয়ং বয়েজ ক্লাবের মণ্ডপে আবার স্টেডিয়ামের আদল। গত এশিয়াডে ভারত যে যে বিভাগে পদক জিতেছে সেই বিভাগগুলিকে মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। মণ্ডপসজ্জায় রয়েছেন শিল্পী সন্তোষ দাস। ক্লাবের সম্পাদক বিপ্লব দেবনাথ বলেন, ‘‘কুস্তি, শুটিং, ভারোত্তোলন, তীরন্দাজিতে ভারতীয়দের সাফল্য দেখানো হয়েছে।’’ জানা গিয়েছে, পুজোর উদ্বোধনে সংবর্ধনা দেওয়া হবে স্থানীয় কৃতী খেলোয়াড়দের।

পানুহাটের নিউ আপনজন ক্লাবের এ বারের থিম ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’। মন্দির, মসজিদ ও গির্জার আদলে কাঠ, হোগলা পাতা দিয়ে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ।