ভাগীরথীতে এক কলেজ ছাত্রীকে ডুবে যেতে দেখে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচাল এক কিশোর। বৃহস্পতিবার সকালে কাটোয়া বাজারের ঘাটে তরুণীকে ডুবে যেতে দেখে চিৎকার জুড়ে দেন ফুল বিক্রেতা এক মহিলা। তা শুনতে পেয়েই কিশোরটি সাঁতার কেটে তাঁকে তুলে নিয়ে আসে। তবে ওই ছাত্রী কী ভাবে জলে পড়ল, সে নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে।

বাজারের ঘাটে বছর দশেক ধরে কলা, ফুল-মালা বিক্রি করেন কাঠগোলাপাড়ার প্রৌঢ়া শুভনকড়ি মণ্ডল। তাঁর দাবি, এ দিন সকাল ৯টা নাগাদ দেখেন, একটি মেয়ে ঘাট লাগোয়া পাগলাকালী মন্দিরে বসে কাঁদছেন। কিছুক্ষণ পরে ঘাটের সিঁড়িতে বসে ফোঁপাতে দেখেন তাঁকে। তার খানিক পরেই জলে ঝাঁপ দেওয়ার আওয়াজ পান। তিনি বলেন, ‘‘আমি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করি।’’ তখন পুরনো ভাঙা জেটিতে বসে গল্প করছিল বছর চোদ্দোর আসলাম শেখ। প্রৌঢ়ার চিৎকার শুনে সে তড়িঘড়ি ছুটে আসে। আসলাম বলে, ‘‘জলের উপরে সাদা জামার অংশ ভাসতে দেখে নেমে পড়ি। জামা টানতেই ওই দিদি উঠে আসে।’’

তরুণীকে ঘাটে তোলার কিছুক্ষণ পরে তাঁর জ্ঞান ফেরে। তাঁকে চা-বিস্কুট খাইয়ে থানায় খবর দেন ঘাটের বাজার কমিটির সম্পাদক কার্তিক দাস।পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে মন্তেশ্বরের ধেনুয়ায় তাঁর বাড়িতে খবর দেয়। দুপুরে তাঁর বাবা এসে মেয়েকে নিয়ে যান।

মন্তেশ্বর গৌড়মোহন রায় কলেজের ছাত্রী ওই তরুণী অবশ্য মন্দিরে বা ঘাটে বলে কান্নাকাটির কথা মানতে চাননি। তাঁর দাবি, বর্ধমানে টিউশনে যাওয়ার জন্য এ দিন বাড়ি থেকে বেরোন। বাস কুসুমগ্রামে পৌঁছনোর পরে এক সহযাত্রীর কাছে জল চেয়ে খান। তার পরে কী হয়েছে, তাঁর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফেরার পরে দেখেন, ভিজে জামাকাপড়ে ভাগীরথীর পাড়ে বসে আছেন। সঙ্গে থাকা ব্যাগের বই ও একশো টাকা গায়েব।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি নিয়ে ধন্দ রয়েছে। কী ভাবে এমন ঘটল, তা বুঝতে পারছেন না বলে জানান ছাত্রীর বাবাও। তিনি শুধু বলেন, ‘‘যাঁরা মেয়ের প্রাণ বাঁচালেন তাঁদের কাছে আমি ঋণী।’’ বাজার কমিটির সম্পাদক কার্তিকবাবু বলেন, ‘‘আসলাম ভাল সাঁতার জানে। শুভনকড়িদেবীও মাস পাঁচেক আগে আর এক কলেজ পড়ুয়াকে বাঁচান। ওঁদের জন্য আমরা গর্বিত।’’