পাঁচ দিন হল ভাড়া এসেছিলেন পাড়ায়। শুক্রবার বিকেলে বাড়ির ভিতর থেকে গুলির শব্দ, তার পরেই নগ্ন, রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় বছর পঞ্চাশের ওই ব্যক্তির। বর্ধমান শহরের ৪ নম্বর শাঁকারিপুকুর এলাকার ঘটনা। পুলিশের দাবি, মৃতের থুতনিতে গুলির চিহ্ন রয়েছে। মাথা ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছে ওই গুলি। ঘটনাস্থল থেকে মিলেছে একটি দোনলা বন্দুকও। পরে মোটরবাইকের নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, মৃতের নাম নারায়ণচন্দ্র ঘোষ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মঘাতী হয়েছেন ওই ব্যক্তি।

পুলিশ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ মাসের গোড়ায় ওই এলাকার বাসিন্দা রূম্পা শূরের বাড়িতে ভাড়া এসেছিলেন ওই ব্যক্তি। মাকে নিয়ে থাকতেন তিনি। রূম্পাদেবীর দাবি, ভাড়া নেওয়া সময় পরিচয়পত্র দেখাতে বলেছিলেন তিনি। ওই বৃদ্ধা আশ্বাস দেন, দিন কয়েকের মধ্যে দিয়ে দেবেন। প্রাথমিক ভাবে ‘এনসিজি’ (নামের আদ্যক্ষর) জানিয়ে ভাড়া নেন তাঁরা। তবে ওই বৃদ্ধার নামও জানেন না এলাকার কেউ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ দিন বিকেলে বাড়ি থেকে বোম ফাটার মতো শব্দ শুনতে পান তাঁরা। জানালা দিয়ে দেখেন, ওই ব্যক্তি নগ্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। বুকের উপরে পড়ে রয়েছে দোনলা বন্দুক। রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর। এর পরেই পুলিশে খবর দেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে আসেন ডি এস পি (হেড কোয়ার্টার) শৌভিক পাত্র। বাড়ির বাইরে থেকে লাগানো তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন তাঁরা।

এলাকাবাসীদের একাংশের দাবি, এ দিন সকালে ওই বৃদ্ধাকে বেরিয়ে যেতে দেখেন তাঁরা। মৃতকে অবশ্য সারা দিন বার হতে দেখেননি। ওই বৃদ্ধা কোথায় গিয়েছেন, তাও জানাতে পারেননি কেউ। বাড়ির মালিকের দাবি, ভাড়া নেওয়ার সময় ওই ব্যক্তি নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী বলে দাবি করেছিলেন। বর্ধমান শহরের রথতলা এলাকায় তাঁদের আরও একটি বাড়ি আছে বলেও জানিয়েছিলেন। পড়শি মৌ দে, প্রদীপ দত্ত, অভিজিৎ দত্তদের দাবি, এই ক’দিনে কারও সঙ্গেই তেমন কথা বলেননি ওই ব্যক্তি। সারাদিন মদ খেয়ে থাকতেন বলেও, দাবি তাঁদের।

পুলিশ জানিয়েছে, দেহ ময়না-তদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।