• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মিলল শিশু, ধৃত মহিলা

The child is rescued within 24 hours, accused woman arrested
সন্তানকে ফিরে পেলেন দম্পতি। ইনসেটে, ধৃত মহিলা। নিজস্ব চিত্র

Advertisement

হাসপাতাল থেকে শিশু চুরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত মহিলার সন্ধান পেল পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। সোমবার সকালে দুর্গাপুরের বেনাচিতি থেকে ওই মহিলাকে আটক করা হয়। সন্ধ্যায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার পরে, মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ওরফে পিঙ্কি) নামে ওই মহিলাকে গ্রেফতার করে শক্তিগড় থানা। রাতে সদ্যোজাত কন্যাটিকে বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন জেলা পুলিশের ডিএসপি (বর্ধমান সদর) শৌভিক পাত্র ও অনাময় হাসপাতালের সুপার অমিতাভ সাহা।

মেয়েকে ফিরে পেয়ে রায়নার সিপটা গ্রামের সন্দীপ মালিক ও রিমা মালিক বলেন, “নিজেদের ভুলে সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম। পুলিশের চেষ্টায় এত তাড়াতাড়ি মেয়েকে ফিরে পেলাম। অনাময় থেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম বলে মেয়ের নাম রাখা হচ্ছে ‘অনাময়ী’।’’ আপাতত ওই দম্পতির চার দিনের কন্যাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পরে প্রযুক্তি সাহায্য নিই। জেলার তিন ওসির নেতৃত্বে তিনটে দল তৈরি করি। বিভিন্ন সূত্রকে কাজে লাগিয়ে খোঁজ মেলে মহিলার। তাঁর কাছে তিন দিনের শিশু থাকলেও সরকারি কোনও নথি ছিল না। শারীরিক পরীক্ষা করাতেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়।’’

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি রায়নার সহজপুর গ্রামে। শ্বশুরবাড়ি খণ্ডঘোষের জুবিলা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদ না নিয়েই কেতুগ্রামের বহড়ানের এক যুবককে বিয়ে করে বেনাচিতিতে মাসখানেক ধরে ভাড়া থাকছিলেন তিনি। বেনাচিতির ওই বাড়ির মালিক মীনাদেবী জানান, যখন ভাড়া এসেছিলেন তখন মহিলাকে দেখে ‘অন্তঃসত্ত্বা’ বলে অনুমান করেন তাঁরা। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাও করাতেন ওঁরা। তার পরে কয়েকদিন বাড়ি তালাবন্ধ ছিল। সোমরাত রাতে হঠাৎ সদ্যোজাতকে নিয়ে ফিরে আসেন দু’জনে। মীনাদেবী বলেন, ‘‘সন্দেহ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে এত তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিল কী করে, জিজ্ঞাসা করি। পিঙ্কি ঠিক করে উত্তর দিতে পারেনি।’’ 

বর্ধমান মেডিক্যাল সূত্রেও জানা যায়, নাম ভাঁড়িয়ে পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায় বৈরাগ্য নামে নিজেকে ২৪ সপ্তাহের প্রসূতি দাবি করে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভর্তি হন ওই মহিলা। শুক্রবার সকালে ‘আল্ট্রাসনোগ্রাফি’ করানোর কথা থাকলেও ফিরে আসেন। তার পরেই ‘রিস্ক বন্ড’ দিয়ে ছুটি নিয়ে নেন। পুলিশের দাবি, রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ প্রসূতি বিভাগের সিঁড়িতে মধুমিতার সঙ্গে রায়নার ওই দম্পতির পরিচয় হয়। আলাপ জমে। ফোন নম্বর দেওয়া-নেওয়া হয়। অভিযুক্ত মহিলা দাবি করেন, কন্যা সন্তানের জন্মের পরে সরকারি প্রকল্প থেকে প্রসূতি ও সদ্যোজাতের ‘সুরক্ষার’ জন্য ছ’হাজার টাকা পাওয়া যায়। দালালের ভয় দেখিয়ে বিষয়টি হাসপাতালের কাউকে না জানানোর কথাও বলেন মধুমিতা।  এর পরেই টোটো করে ওই দম্পতিকে নিয়ে অনাময়ে যান অভিযুক্ত ওই মহিলা।

রবিবার বিকেলে খণ্ডঘোষ, রায়না ও শক্তিগড়ের ওসি, যথাক্রমে প্রসেনজিৎ দত্ত, পুলক মণ্ডল ও কুণাল বিশ্বাসের নেতৃত্বে তিনটে দল তদন্তে নামে। তাঁরা জানতে পারে, অনাময় থেকে ওই মহিলা রায়না ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। সেখানে শিশুটিকে ‘পোলিও’ প্রতিষেধক খাইয়ে খণ্ডঘোষের জুবিলা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান ওই মহিলা। তাঁর দুই ছেলে পুলিশকে জানিয়েছে, ‘মাসখানেক ধরে মা বাড়িতে আসছে না। রায়নার সহজপুরে মামারবাড়িতে আছে’। পুলিশ সহজপুরে গিয়ে ওই মহিলার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। মোবাইলের সূত্র ধরে চলে তল্লাশি। 

জেলা পুলিশের ‘সাইবার’ থানার দল দাবি করেছে, অভিযুক্তের সঙ্গে দুর্গাপুর-কাঁকসা থানা এলাকায় অনেকের যোগাযোগ রয়েছে। শক্তিগড় থানার দাবি, কাঁকসা থানা থেকে জানানো হয়, বাঁশকোপা বাসস্ট্যান্ডে তিন দিনের শিশু নিয়ে সন্দেহজনক ভাবে এক জনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আটকানো হয়েছিল। কিন্তু কাগজপত্র দেখানোয় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুর থানা জানায়, বেনাচিতিতে তিন দিনের শিশু নিয়ে এক মহিলা রবিবার রাতে বাড়ি এসেছেন। সোমবার ভোরে পুলিশ ওই বাড়িতে হানা দেয়। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের মুখের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজের ছবি মিলে যায়। এ ছাড়া, সদ্যোজাতের কোনও শংসাপত্র ওই মহিলা দেখাতে পারেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সারা রাস্তা, হাসপাতালে এসেও ওই মহিলা দাবি করেছেন শিশুটি তাঁর। টোটোয় সন্তানের জন্ম হয়েছে বলেও দাবি করেন। এ দিন রাতে শৌভিকবাবু ও অমিতাভবাবু বলেন, “ওই মহিলা ক্রমাগত মিথ্যা কথা বলেছেন। কয়েক বছরের মধ্যে ওঁর গর্ভবতী হওয়ার কোনও লক্ষ্মণ পাওয়া যায়নি।’’

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন