বর্তমান রয়েছেন। প্রাক্তন নেই সভায়। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়াল আইএনটিটিইউসি-র জেলা সভাপতি হওয়ার পরে শুক্রবারই ছিল সংগঠনের প্রথম সভা। সেখানেই দেখা গেল না সংগঠনের প্রাক্তন জেলা সভাপতি প্রভাত চট্টোপাধ্যায়কে। এই ঘটনায় ফের গোষ্ঠীকোন্দলের কাঁটা দেখছেন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের একাংশ। 

বছর দুয়েক জেলায় আইএনটিটিইউসি-র কোনও কমিটি ছিল না। সংগঠনের কর্মীদের একাংশের মতে, বার বার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এলেও রাশ আসলে ছিল সেই পুরনোদেরই হাতে। সংগঠনের নতুন জেলা সভাপতি হিসেবে বিশ্বনাথবাবুর নাম ঘোষণা করেছিলেন স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই ঘোষণার পরে অনেকেই মনে করেছিলেন, কোন্দলে ইতি প়ড়বে। কিন্তু এ দিন প্রভাতবাবুর অনুপস্থিতি ও এ দিন যে জায়গায় সভা হয়েছে, সেখানেই আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আইএনটিটিইউসি-র ব্যানারেই ডাকা অন্য আরও একটি সভা ঘিরে ফের কোন্দলের মেঘ দেখছেন সংগঠনের কর্মীদের একাংশ।

এএসপি-র কৌশলগত বিলগ্নিকরণের সিদ্ধান্ত-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের আরও কয়েকটি নীতির বিরুদ্ধে এ দিন সভাটি হয়েছিল। সভা ঘিরে সংগঠনের মধ্যেই চাপানউতোর চলছিল বলে দাবি আইএনটিটিইউসি-র একটি সূত্রের। একাংশের নেতা, কর্মীদের দাবি, সাংগঠনিক অনুমোদন না নিয়েই বিশ্বনাথবাবু সভা ডেকেছিলেন। বিশ্বনাথবাবু পাল্টা অবশ্য জানান, সংগঠনের সব নেতাকে তিনি নিজে ফোন করে আমন্ত্রণ জানান। এর মধ্যেই ১০ সেপ্টেম্বর ফের সভার কথা চাউর হয়।

কিন্তু কেন কোন্দলের আশঙ্কা? প্রবীণ শ্রমিকেরা জানান, রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে থেকেই জেলার আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি ছিলেন প্রভাতবাবু। কিন্তু গত কয়েক বছরে ডিএসপি-র ঠিকাশ্রমিক নিয়োগ ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে আইএনটিটিইউসি-র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। সিটু সমর্থকরা তো বটেই, এমনকি আইএনটিটিইউসি-র ভিন্ন গোষ্ঠীর লোকজনকেও কাজ ছাড়তে চাপ দেওয়া, স্থানীয়দের বঞ্চিত করে অর্থের বিনিময়ে ভিন জেলার লোকজনদের কাজ পাইয়ে দেওয়া-সহ নানা অভিযোগ উঠেছে ডিএসপিতে। দুর্গাপুরের অন্য কারখানাগুলিতেও এমন অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬-য় দুর্গাপুরের দু’টি বিধানসভা আসনই তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়ার পরে আইএনটিটিইউসি-র সব কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। তবে সংগঠন দেখভালের কাজে কার্যত পুরনোরাই থেকে যান।

সম্প্রতি বিশ্বনাথবাবু সভাপতি হওয়ার পরে সংগঠনের রাশ নিজের হাতে নিতে উদ্যোগী হন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে চলব। গোষ্ঠীর কিছু নেই। কারখানার সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক-কর্মীরা যাঁকে নেতা হিসেবে মেনে নেবেন তাঁকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে।’’ কিন্তু শুক্রবারের সভায় প্রভাতবাবুর অনুপস্থিতির পরে তাঁর সেই ‘নীতি’ কতটা কার্যকরী, হবে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। প্রভাতবাবুর অবশ্য দাবি, ব্যক্তিগত কারণে তিনি শহরের বাইরে আছেন। তাই তিনি সভায় যেতে পারেননি। ১০ সেপ্টেম্বরের সভায় কি তিনি থাকবেন? প্রভাতবাবু বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই যাব। কোনও কারণে দুর্গাপুরে না থাকলে আলাদা কথা।’’ সংগঠনের একাংশের মতে, প্রভাতবাবুর অনুগামীরাই মূলত ১০ সেপ্টেম্বরের সভার আয়োজক।

সংগঠনের জেলা চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি ভি শিবদাসন অবশ্য বলেন, ‘‘কলকাতায় পঞ্চায়েত নিয়ে বৈঠক থাকায় সভায় থাকতে পারিনি। তবে কলকাতা যাওয়ার পথে প্রস্তুতি দেখে এসেছি।’’ ১০ সেপ্টেম্বরের সভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আইএনটিটিইউসি-র নামে ডাকা যে কোনও সভাতেই নেতৃত্বের সবাই হাজির থাকবেন। কোনও মতান্তর থাকলে তা বসে মিটিয়ে নেওয়া হবে। লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে একযোগে সবাই কাজ করবেন।’’