আগের দিনই অনুগামীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সহ-সভাপতি বাবর আলি। ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই অস্ত্র-সহ বাড়িতে ঢুকে ভয় দেখানোর অভিযোগে দুই বিজেপি কর্মী-সহ মন্তেশ্বরের রাইগ্রামের ওই নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

বিজেপির অভিযোগ পরিকল্পিত ভাবে শাসক দলের মদতে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, গ্রেফতারের সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই। পুলিশ জানিয়েছে, বাবর আলি ছাড়া বাকি দুই ধৃত হলেন মহিরুদ্দিন শেখ এবং ফোট্টু শেখ। সোমবার তিন জনকে কালনা আদালতে তোলা হলে বাবরের চার দিনের পুলিশ হেফাজত ও বাকিদের ১৪ দিন জেল হাজত দেন বিচারক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেলে রাইগ্রাম গোরাচাঁদতলায় বিজেপির একটি সভা হয়। হাজির ছিলেন দলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ। সেখানেই বিজেপিতে যোগ দেন বাবর আলি। বিজেপির দাবি, তৃণমূল থেকে প্রায় হাজার তিনেক মানুষ যোগ দেন। তার পরেই গ্রামে শুরু হয় তাণ্ডব। বিজেপির অভিযোগ, গ্রাম এবং আশেপাশে লাগানো দলের পতাকা খুলে নষ্ট করে দেওয়া হয়। রাতে পুলিশ ওই তিন জনকে ধরে।

পুলিশ জানিয়েছে, মন্তেশ্বরের তৈয়বপুর জোবেদ আলি  শেখ ওই দিনই বাবর-সহ তিন জনের নামে অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে যাওয়ার পথে ওই নেতার দাবি, ‘‘এলাকার এক শ্রেণির নেতাদের অত্যচারে তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই। পুলিশ মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে আমাদের।’’

বিজেপির জেলা সম্পাদক বিশ্বজিৎ পোদ্দারের দাবি, ‘‘ওই নেতা তৃণমূলে থাকাকালীন তাঁ বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না। দল ছেড়ে বিজেপিতে আসতেই গ্রেফতার করা হল। তৃণমূলের উদ্দেশ্য সবাই বুঝতে পারছে।’’ যদিও মন্তেশ্বরের তৃণমূল ব্লক সভাপতি আজিজুল হকের দাবি, ‘‘বাবর আলি নির্বাচনের সময় সিপিএমের সঙ্গে এবং নির্বাচনের পরে বিজেপির হয়ে কাজ করছিলেন। যা শুনেছি তাতে ধৃতদের সঙ্গে এলাকার এক জনের ব্যক্তিগত সমস্যা হয়েছিল। বিষয়টিকে বিজেপি রাজনৈতিক রং লাগিয়ে ফায়দা তুলতে চাইছে।’’ ওই বিজেপিতে তিন হাজার নয়, ৫০ জন যোগ দিয়েছেন বলেও তাঁর দাবি।