কারখানা ‘কর্পোরেট’ না করার দাবিতে সোমবার চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার প্রশাসনিক দফতরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি করল তৃণমূল। নেতৃত্বে ছিলেন বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, এই কারখানা বেসরকারিকরণের চক্রান্ত করছে কেন্দ্র। তা রুখতে তাঁরা জোরদার আন্দোলন করবেন বলে তাঁর দাবি। এ দিনের কর্মসূচিতে অবশ্য চিত্তরঞ্জনের ১৩টি শ্রমিক সংগঠন ও স্টাফ কাউন্সিল নিয়ে গঠিত ‘সেভ সিএলডব্লিউ জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’র কেউ যোগ দেননি বলে কমিটির তরফে জানানো হয়েছে।

কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ জুন রেলবোর্ডের তরফে সংস্থার জেনারেল ম্যানেজারের কাছে পাঠানো একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংস্থাকে ‘কর্পোরেট’ করা হবে। এর পরেই কারখানা জুড়ে শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, কর্পোরেট করার নামে কারখানাকে হয় বন্ধ অথবা বেসরকারি করে দেওয়া হবে। ধারাবাহিক আন্দোলনের জন্য ‘সেভ সিএলডব্লিউ জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’ গড়া হয়েছে। ৫ জুলাই সংস্থার প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রায় হাজার দশেক শ্রমিকের জমায়েতে বিক্ষোভ হয়। সোমবার সেখানে অবস্থান-বিক্ষোভের আয়োজন করে তৃণমূল। বিধায়কের দাবি, এই বিষয়টি তিনি বিধানসভায় তুলবেন।

তবে তৃণমূল আয়োজিত এই বিক্ষোভে তাদের কেউ থাকবেন না বলে আগেই জানিয়েছিল সেভ সিএলডব্লিউ জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক তথা কারখানার স্টাফ কাউন্সিল সদস্য সৌমেন দাসের বক্তব্য, ‘‘এটি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি।  কারখানা বাঁচাতে শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ সমন্বয় কমিটি গড়া হয়েছে। আমরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে লড়াই চালাব। তবে শুধু বিধায়কের কর্মসূচি হলে আমরা যোগদানের কথা বিবেচনা করতাম।’’ 

সিটু নেতা রাজীব গুপ্তের বক্তব্য, ‘‘আমরা মনে করি একক আন্দোলনে কারখানা বাঁচানো যাবে না। তাই সমস্ত শ্রমিক সংগঠনকে এক ছাতার তলায় আনা হয়েছে।’’ আইএনটিইউসি নেতা স্বপন লাহা বলেন, ‘‘রাজনৈতিক রং বাদ দিয়ে কারখানা বাঁচানোর লড়াইয়ে যে কেউ শামিল হতে পারেন। তাই অ্যাকশন কমিটির পতাকার রঙ কালো করা হয়েছে।’’ 

বিধায়ক বিধানবাবু অবশ্য বলেন, ‘‘কর্মসূচিতে কে নেই সেটা বড় কথা নয়। কারখানা বাঁচানোর দায়িত্ব আমরা এড়িয়ে যাইনি বলেই আন্দোলনে নেমেছি।’’