যোগাযোগ ও যাত্রী পরিষেবার উন্নতিতে তৃতীয় লাইন পাতার কাজ চলছে হাওড়া মেন লাইনের দেবীপুর থেকে রসুলপুরের মধ্যে। ওই কাজের জন্য পাণ্ডুয়া থেকে শক্তিগড়ের মধ্যে শুক্রবার থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেলা ১১টা ১৫ থেকে দুপুর ২টো ১৫ মিনিট পর্যন্ত আপ এবং ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে রেল সূত্রে বলে জানা গিয়েছে।  

পূর্ব রেল সূত্রে জানা যায়, মিথিলা এক্সপ্রেস, হাওড়া-আজিমগঞ্জ কবিগুরু এক্সপ্রেস, হাওড়া-সিউড়ি হুল এক্সপ্রেস, হাওড়া-মালদহ টাউন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, হাওড়া-মোকামা প্যাসেঞ্জার, কলকাতা-জসিডি প্যাসেঞ্জার, হাওড়া-রাজগীর প্যাসেঞ্জোর-সহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়াও আপ এবং ডাউন লাইনে ১৬ জোড়া ইএমইউ লোকাল বাতিল করা হয়েছে। ১২টি আপ এবং ৮ টি ডাউন মেল এক্সপ্রেস ট্রেনকে নৈহাটি-ব্যাণ্ডেল এবং ডানকুনি-বর্ধমান দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বেশ কিছু মেল এক্সপ্রেস ট্রেন ব্যান্ডেল এবং বর্ধমানের মধ্যে সব স্টেশনে থামবে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী বলেন, “উন্নয়নের কাজের জন্যে বর্ধমান মেন লাইনের বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে। কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্যে অনেক আগে থেকেই বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।’’

জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন দার্জিলিং মেল ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাটোয়া-আজিমগঞ্জ হয়ে যাতায়াত করবে। এতে দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন বর্ধমান ও বোলপুরের যাত্রীরা। তাঁদের কাটোয়া বা আজিমগঞ্জে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হবে। শিয়ালদহ-দিল্লি এক্সপ্রেস বর্ধমানের বদলে কাটোয়া-আমোদপুর লাইনে যাতায়াত করবে। বেলারি এক্সপ্রেস, গয়া এক্সপ্রেস, কবিগুরু এক্সপ্রেসও চলবে ওই রুট দিয়ে। 

এ দিন বর্ধমান স্টেশনে ঠাসা ভিড়, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় বহু জনকে। চিত্তরঞ্জনের বিভাস সরকার বলেন, “বারাসাত যাব বলে দাঁড়িয়ে রয়েছি। শুনলাম ট্রেন বাতিল। কর্ড লাইনেও যাওয়া যাবে না।’’ ব্যান্ডেল-নৈহাটি হয়ে বিভিন্ন স্টেশনে যাবেন, এমন যাত্রীদের সমস্যা বেশি হয়েছে। আবার বর্ধমান থেকে দূরপাল্লার ট্রেন ধরে অন্য জায়গায় যাবেন, এমন যাত্রীরাও অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। পাণ্ডুয়ার বাসিন্দা প্রদীপ মালিকের কথায়, “বিহারে যাওয়ার কথা ছিল। টিকিটও কাটা ছিল। কিন্তু ট্রেন না থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছতে পারিনি।’’ মেমারির বাসিন্দা অরুণকান্তি মণ্ডল, কলেজ ছাত্রী রিঙ্কি মণ্ডলদের কথায়, “ওই সময় প্রচুর পড়ুয়া ট্রেনে যাতায়াত করেন। তাঁদের খুবই সমস্যা হবে।’’

তবে শক্তিগড়ে এসে থার্ড লাইনের কাজ শেষ হয়ে গেলে মেন লাইনে ট্রেনের অযথা দেরি হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যাবে, বলেও আশা যাত্রীদের।