কয়েক জন যুবক বৃহন্নলা সেজে অসৎ উপায়ে টাকা তুলছে। কাটোয়া মহকুমার মধ্য দিয়ে যাওয়া নানা ট্রেনে ওই যুবকদের ‘উৎপাত’ চলছে। এমনই অভিযোগ করলেন বৃহন্নলারা। এই মর্মে রবিবার তাঁরা কাটোয়া রেল স্টেশনে জিআরপি-কে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রেলযাত্রী ও এলাকাবাসীর মধ্যে প্রচারও চালান তাঁরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় বছর তিনেক আগে থেকে কাটোয়া শহর-সহ আশপাশের এলাকায় ‘নকল’ বৃহন্নলাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। বৃহন্নলা সাজা ওই যুবকেরা পূর্বস্থলী ও সালারের বাসিন্দা বলে অভিযোগ বৃহন্নলাদের। মূলত কাটোয়া-ব্যান্ডেল ও কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার ট্রেনেই ওই যুবকেরা টাকা তুলছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, কাটোয়া শহরে নবজাতক হয়েছে, এমন বাড়িতে গিয়েও টাকা তুলছে ওই যুবকেরা। এই পরিস্থিতিতে প্রকৃত বৃহন্নলারা সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে ওই স্মারকলিপিতে জানানো হয়। এমনকি, তাঁদের অনেক সময়ে মারধর ও হেনস্থারও শিকার হতে হচ্ছে। বছর দুয়েক আগেই এক বৃহন্নলাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

প্রশাসনের হিসেবে, কাটোয়া মহকুমার তিনটি থানা এলাকায় ৩০ জন বৃহন্নলা রয়েছেন। তাঁদের তরফে কমল চৌধুরী ওরফে পিঙ্কি জানান, তাঁরা মূলত ন্যাশনালপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে থাকেন। তাঁদের দাবি, ‘‘আমরা ট্রেন বা বাসে গিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিই না। কারও বাড়িতে নবজাতক এলে, তাঁর বাড়ি যাই।’’ সেই সঙ্গে তাঁর ক্ষোভ, ‘‘নকল বৃহন্নলাদের উৎপাতে আমাদের রুজি বন্ধ হতে বসেছে। আমরা কখনই কাউকে কোনও বিষয়ে চাপ দিই না। কিন্তু নকল বৃহন্নলাদের জন্য সাধারণ মানুষ আমাদের ভুল বুঝছেন। পুজোর মুখে সেই সমস্যা আরও বেড়েছে।’’

স্মারকলিপি পেয়ে ‘নকল’ বৃহন্নলাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন জিআরপি-র (কাটোয়া) অফিসার ইনচার্জ বিজয় সিংহ। মহকুমাশাসক (কাটোয়া) সৌমেন পালেরও আশ্বাস, ‘‘অভিযোগ খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।’’