তলা দিয়ে বয়ে চলেছে বরাকর নদ। আর তা দেখা যাচ্ছে সেতুর ফুটপাতে দাঁড়িয়েই। কারণ, ফুটপাতের দু’টি স্ল্যাব ধসে গিয়েছে। ফাটল ধরেছে সেতুর পিলারেও। শুক্রবার দুপুরে এমনই বিপত্তি দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানায় ডুবুরডিহি চেকপোস্ট লাগোয়া ২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে থাকা সেতুতে। এই পরিস্থিতিতে বিপত্তির আশঙ্কায় সেতু দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে দুই রাজ্যের পুলিশ।

২ নম্বর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই দিন দুপুরে সেতু পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দেখেন, সেতুতে পাঁচ নম্বর পিলারে ফাটল রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। জাতীয় সড়কের আসানসোল শাখার মুখ্য বাস্তুকার মলয় দত্ত জানান, খবর পাওয়া মাত্র ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। অবস্থার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে ওই সেতুর লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মলয়বাবু বলেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে আমাদের মনে হয়েছে পিলারের উপরে থাকা বেয়ারিং ও গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দুর্ঘটনা এড়াতে সেতু দিয়ে মোটরবাইক ও স্কুটার ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।’’

মলয়বাবু জানান, বিশেষজ্ঞরা সেতুর ফাটলের অংশটি পরীক্ষা করেছেন। শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল পিলারটি কয়েক ইঞ্চি ফেটে গিয়েছে। জাতীয় সড়কের কর্মী ও পুলিশ আধিকারিকেরা বারবার ঘটনাস্থল ঘুড়ে দেখছেন। লেনের দু’দিকে পুলিশের তরফে রেলগার্ড বসিয়ে যান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা পরমাত্মা প্রসাদ জানান, শুক্রবার সকালে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময়ে তাঁরা আস্বাভাবিক কিছু শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন। দুপুরে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার পরে তাঁরা সেতুতে ওই ফাটলের কথা জানতে পারেন। 

পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা আসানসোল, কলকাতা, বীরভূম-সহ এই রাজ্যের নানা প্রান্তের দিকে আসা ভারী পণ্যবাহী গাড়ি, ট্রাকগুলিকে লাগোয়া অন্য সেতু দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেশি দিন শুধুমাত্র লাগোয়া অন্য সেতুটি দিয়ে দু’দিকের যানবাহন চলাচল করলে বিপত্তি ঘটতে পারে সেখানেও, আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।

তবে এই সেতুতে এমন সমস্যা কেন? জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানান, সেতুটি প্রায় চার দশকের পুরনো। তৎকালীন বিহার সরকারের পূর্ত দফতর এই সেতু নির্মাণ করেছিল। প্রায় তিন দশক আগে পূর্ত দফতর সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তুলে দেয় ২ নম্বর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে। মলয়বাবুর কথায়, ‘‘বর্তমান ঝা়ড়খণ্ডের পূর্ত দফতরের কাছে সেতুটির নকশা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। তা পাওয়ার পরেই সংস্কারের কাজ শুরু হবে।’’ সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা।

তবে সেতুতে বিপত্তির কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানিয়েছেন, সম্প্রতি কলকাতায় মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়ের পরে ডুবুরডিহি চেকপোস্টে কলকাতাগামী পণ্যবোঝাই ট্রাক ঢোকা বন্ধ করা হয়। ওই সময়ে কয়েকশো পণ্যবোঝাই ভারী ট্রাক বেশ কয়েক দিন ওই সেতুতে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। সেতুটি পুরনো, তাই ভার বহণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এই ফাটল হয়ে থাকতে পারে। এই প্রসঙ্গে মলয়বাবু বলেন, ‘‘ভবিষ্যতের কথা ভেবে সেতুতে কোনও ভাবেই ভারী ট্রাক দাঁড় করানো যাবে না।’’