সেতু থেকে কয়েক ফুট নীচে রেললাইনের পাশে পড়ে গেল ট্রাক। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২ নম্বর জাতীয় সড়কে আসানসোলের মেলেকোলা সেতুতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ট্রাকে থাকা তিন পরিবহণ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়।

সালানপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মালবোঝাই একটি ট্রাক বিহারের মুজফ্‌ফরপুর থেকে কলকাতার দিকে আসছিল। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রাকটি সেতুর রেলিং ভেঙে কয়েক ফুট নীচে পূর্ব রেলের হাওড়া-দিল্লি মেন লাইনের পাশে থাকা একটি দেওয়ালের উপরে পড়ে। রেল সূত্রে খবর, ওই সময়েই আপ লাইন ধরে অমৃতসর মেল যাচ্ছিল। ট্রেনের চালক দেখেন, দেওয়ালে ঝুলছে ট্রাক। তিনি দ্রুত বিষয়টি সালানপুর কেবিনে জানান। সেখান থেকে খবর যায়, রেলের আসানসোল ডিভিশনে।

খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে চলে আসেন পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের কর্তারা। ডিআরএম (আসানসোল) প্রশান্তকুমার মিশ্র বলেন, ‘‘ঘটনার কথা জানার পরেই আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ডাউন লাইন দিয়ে ১০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলানো হয়।’’

রেললাইনের ধারে ঝুলছে ট্রাক। শুক্রবার ঘটনাস্থলে। নিজস্ব চিত্র

রেল থেকেই যোগাযোগ করা হয় স্থানীয় প্রশাসন ও সালানপুর থানার সঙ্গে। পুলিশ জানিয়েছে, রাতভর ট্রাকটি উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ট্রাকটিকে তোলা যায়নি। সেই সঙ্গে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না ট্রাকে থাকা চালক-সহ অন্য পরিবহণ কর্মীদেরও। শেষমেশ শনিবার সকাল ৮টায় ক্রেনের সাহায্যে ট্রাকটিকে উদ্ধার করা হয়। দেখা যায়, তিন জন চাপা পড়েছেন ট্রাকের তলায়। দেহগুলি উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকটি যে পরিবহণ সংস্থার, সেটির এক আধিকারিক খবর পেয়ে কলকাতা থেকে সকালেই আসানসোলে আসেন। পুলিশ জানায়, তিনিই যোগাযোগ করেন মৃত পরিবহণ কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে। জানা যায়, মৃতেরা প্রত্যেকেই মুজফ্‌ফরপুরের বাসিন্দা। পরিবারের লোকজন আসানসোলে আসছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা শহরে এসে পৌঁছননি। তাঁরা শহরে আসার পরেই মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। 

ডিআরএম প্রশান্তবাবু জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ৯টা থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। রেলের পরিকাঠামোরও কোনও ক্ষতি হয়নি।