• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মহালয়ায় ভাগীরথীতে নিখোঁজ দুই

Bhagirati
চলছে উদ্ধারের চেষ্টা। মঙ্গলবার সকালে কাটোয়ায়। নিজস্ব চিত্র
মহালয়ার দিন ভাগীরথীতে নেমে কালনা ও কাটোয়ায় তলিয়ে গেলেন দু’জন। উদ্ধারকাজ শুরু হলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তাঁদের খোঁজ মেলেনি।
কাটোয়ার মাস্টারপাড়ায় মামারবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন আসানসোলের রেলপাড়ের বাসিন্দা, বছর আটত্রিশের সঞ্জীব কবি। তিনি বহরমপুরে এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী। এ দিন মামার সঙ্গে ভাগীরথীর দেবরাজ ঘাটে তর্পণে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মামার মেয়ে সোনালি বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি জানানন, তর্পণ শুরুর আগে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যান সঞ্জীব। ঘাটে মোতায়েন ছিল পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলার একটি দল। একটি নৌকোয় তল্লাশি চালানো হয়। মহকুমা বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক বামদেব সরখেল জানান, ৮ জনের দল চালালেও সঞ্জীবের খোঁজ মেলেনি।
কয়েক মাস আগেই কালীবাড়ি ঘাটে স্নানে নেমে তলিয়ে যায় এক তরুণ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘাটগুলির অবস্থা বিপজ্জনক। নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা নেই। কাটোয়ার পুরপ্রধান অমর রাম বলেন, ‘‘ঘাট পুরসভার হলেও বোল্ডার কোথায় ফেলা দরকার, তা দেখার দায়িত্ব সেচ দফতরের।’’ 
বাবাকে তর্পণ করাতে কালনায় নিয়ে এসেছিলেন বর্ধমানের বসতপুরের বছর আঠারোর হিমাদ্রি চৌধুরী। অভিরামপুর টেকনিক্যাল কলেজের ছাত্র হিমাদ্রি ও তাঁর বাবা মধুসূধনবাবু মালতীপুর এবং পিয়ারিনগর ঘাটের মাঝামাঝি এক ইটভাটা লাগোয়া এলাকায় ভাগীরথীতে নামেন তাঁরা। মধুসূদনবাবু তর্পণের প্রস্তুতি শুরু করেন। হিমাদ্রি কাছাকাছি ঘাটের দিকে যান। কিছুক্ষণ পরে মধুসূদনবাবু খবর পান, ছেলে তলিয়ে গিয়েছে। ওই সময়ে ঘাটে নামা নিমাই দাস নামে এক ব্যক্তির কথায়, ‘‘ছেলেটি তলিয়ে যাওয়ার সময়ে চিৎকার করলে একটি ধুতি ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে ধরতে পারেনি।’’ 
প্রশাসনের তরফে তল্লাশি শুরু করা হলেও রাত পর্যন্ত ওই ছাত্রের খোঁজ মেলেনি। ঘটনার পরে বাকরুদ্ধ হয়ে যান মধুসূদনবাবু। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যে সব ঘাটে তর্পণ হয় সেগুলিতে লাইফ জ্যাকেট, উদ্ধারকারী নৌকা, ডুবুরি রাখা প্রয়োজন। কিন্তু প্রশাসন উদাসীন। মহকুমাশাসক (কালনা) নীতিন সিংহানিয়া বলেন, ‘‘কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন