রানিগঞ্জ শহর ও গ্রামীণ এলাকার পুজোয় এ বার থিমের ছড়াছড়ি। ৬৩ বছরের প্রাচীন রানিগঞ্জ রেলওয়ে দুর্গোৎসব কমিটির পুজোয় এ বার চারশোর বেশি পদ্মফুল দিয়ে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। বারো বছর আগেই থিমের পুজো শুরু করেছিল শিশুবাগান সর্বজনীন। এ বার মণ্ডপ হবে অজন্তা-ইলোরার আদলে। সিহারশোল রাজ হাইস্কুলের মাঠে অক্ষরধাম মন্দিরের আদলে মণ্ডপ বানাচ্ছে খাঁড়শুলি ইউনাইটেড ক্লাব। পুজো কমিটির সম্পাদক গৌরাঙ্গদেব চট্টোপাধ্যায়ের বৃষ্টি নিয়ে আশঙ্কা। কয়েক বছর আগে বৃষ্টিতে তাঁদের ঘাস-মাটির মণ্ডপটি নষ্ট হয়েছিল।

সিহারশোলগ্রাম সর্বজনীন এ বার মণ্ডপ তৈরি করছে গোয়ার একটি চার্চের আদলে। পুজো কমিটির পক্ষে আদিত্য মুখোপাধ্যায় জানান, সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিতেই এই সিদ্ধান্ত। শিশুবাগানের উত্তরপল্লি সর্বজনীনে মণ্ডপে ঢুকতে হবে তিনটি বিরাট আকারের আলোর তোরণ পেরিয়ে। প্রবেশপথে থাকবে বুদ্ধমূর্তি। সিহারশোল রাজ ময়দানে রাজবাড়ি মোড় সর্বজনীন এ বার থিম ছেড়ে জোর দিয়েছে আলোকসজ্জার উপরে। পুজো কমিটির পক্ষে দীপক গোপ জানান, পাকা মন্দির গড়ে তুলেছি। তাই আলোকসজ্জায় জোর
দেওয়া হচ্ছে।

অন্য দিকে, অন্ডালেও নানা থিমের আয়োজন করা হয়েছে। অন্ডাল পশ্চিমপল্লির পুজোমণ্ডপ হয়েছে ইসকনের মন্দিরের আদলে। সঙ্ঘশ্রী ক্লাব পরিচালিত দক্ষিণপল্লি সর্বজনীনের মণ্ডপে থার্মোকলের তৈরি ৫০০টি পেঁচার মডেল দিয়ে সাজানো হয়েছে। মণ্ডপসজ্জায় সাঁওতালি ও লোকশিল্পের প্রভাব পড়েছে। এ পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা শোভন পাল বলেন, “পেঁচা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। পেঁচার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটাতেই এই উদ্যোগ।” অন্ডাল নিউ ট্র্যাফিক কলোনি সর্বজনীনের মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে মন্দিরের আদলে। প্রতিমায় থাকবে ছৌ নাচের প্রভাব। মধ্যকলোনি সর্বজনীনের কাল্পনিক মন্দিরের অনুকরণে তৈরি মণ্ডপে দেবীর সাবেক রূপ। অন্ডাল ১২ নম্বর রেল কলোনির পুজোয় আলোর আইফেল টাওয়ার তৈরি হবে। মণ্ডপের ভিতরে রণংদেহী মা। অন্ডাল ট্র্যাফিক কলোনির প্রতিমা সাবেক। এই পুজোর আকর্ষণ হল মেলা।