প্রায় ১১ মাস আগে কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শ্রমিক-কর্মীরা সকলেই স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। কিন্তু এখনও তাঁদের বকেয়া প্রভিডেন্ড ফান্ডের (পিএফ) টাকা মেলেনি, এই অভিযোগে সোমবার থেকে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কারখানার গেটে তিন দিনের অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছেন সংস্থার শ্রমিক-কর্মীরা।
শতবর্ষ প্রাচীন কারখানাটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য ২০১৭ সালের মে মাসে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইবুনাল (এনসিএলটি)-এর কাছে প্রস্তাব পাঠায় রেল মন্ত্রক। ২০১৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এনসিএলটি কারখানাকে দেউলিয়া ঘোষণা করে। পর দিনই সংস্থার সমস্ত শ্রমিক-কর্মীকে স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে কর্মীরা চলে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, এখনও পিএফ খাতের কোনও টাকা পাননি।
সোমবার সকালে কারখানার গেটে সিটু, আইএনটিইউসি, বিএমএস এবং আইএনটিটিইউসি-র কর্মী-সমর্থকেরা জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। সিটু নেতা দেবাশিস কর্মকারের অভিযোগ, ‘‘স্বেচ্ছাবসরের সঙ্গে-সঙ্গেই সমস্ত বকেয়া মেটানোর কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনও হেলদোল দেখাচ্ছেন না।’’ আইএনটিইউসি নেতা যশপাল সিংহের বক্তব্য, ‘‘পিএফের টাকা না পেয়ে কর্মীরা কষ্টের মধ্যে আছেন।’’ আইএনটিটিইউসি নেতা বিনয় মিশ্র বলেন, ‘‘এমনিতেই চাকরির মেয়াদ ফুরোনোর আগে আমাদের বসানো হয়েছে। তার উপরে বকেয়া না মেটানোয় অর্থ সঙ্কটে পড়েছেন শ্রমিকেরা।’’ বিএমএস নেতা দেবপ্রিয় গড়াই অভিযোগ করেন, কারখানার আবাসনগুলি এখন আর থাকার যোগ্য নয়। কিন্তু পিএফের টাকা না মেটানোয় কর্মীরা বাধ্য হয়ে কষ্ট করে থাকছেন। তাঁর দাবি, ‘‘আমাদের বকেয়া মিটিয়ে দিলেই আবাসন ছেড়ে চলে যাব।’’
কর্মীদের দাবি, চার জন শ্রমিক-কর্মী স্বেচ্ছাবসরের পরে পিএফের টাকা হাতে পাওয়ার আগেই মারা গিয়েছেন। মৃত কর্মী রামচন্দ্র রায়ের বড় ছেলে অমিতাভ রায় বলেন, ‘‘বাবার রোজগারে সংসার চলত। আমি বেকার। দুই ভাই এখনও পড়াশোনা করে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাবার পিএফের টাকাটা পেলে কোনও ব্যবসা শুরু করতে পারতাম।’’
কবে পিএফের টাকা মেটানো হবে, সে ব্যাপারে অবশ্য কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে কারও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।