• গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রকাশ পাল
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ইঙ্গিত শাসক দলের নেতাদের

এগারোটি পুরসভার সংযুক্তি এখনই নয়

এক দিকে সারদা-কাণ্ডে মন্ত্রী-সাংসদদের গ্রেফতারি, অন্য দিকে দলে ভাঙন এবং বিজেপির উত্থান সব মিলিয়ে রাজ্যের শাসক দল এখন ঘোর বিড়ম্বনায়। তাই আসন্ন পুরভোটে বিপর্যয় এড়াতে হুগলির গঙ্গা পাড়ের পুরসভাগুলিকে সংযুক্ত করে এক ছাদের তলায় আনার প্রক্রিয়া থেকে রাজ্য সরকার আপাতত সরে আসছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে নবান্ন সূত্রে। একই ইঙ্গিত দিচ্ছেন শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং জেলা স্তরের নেতারা।

রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে পর্যালোচনা চলছে। পুরো বিষয়টি জেলাশাসকের এক্তিয়ারে রয়েছে। আসন্ন পুর নির্বাচন নিয়ে গত শুক্রবার হুগলি-সহ বিভিন্ন জেলার পুর প্রতিনিধিদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করলেও পুরসভাগুলির সংযুক্তি নিয়ে কোনও শব্দ খরচ করেননি। এ থেকেই রাজ্য সরকারের ওই সিদ্ধান্ত যে আপাতত শিকেয়, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন শাসক দলের এক প্রথম সারির নেতা।

ওই নেতার কথায়, “যখন দলের সামনে কোনও ঝুঁকি থাকে না, তখন পরীক্ষামূলক ভাবে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি একেবারে অন্য রকম। এক দিকে নির্বাচন অন্য দিকে বিরুদ্ধ পরিস্থিতি। তাই দল আপাতত ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে।” জেলা তৃণমূলের এক নেতাও বলেন, “আমরা পুরসভার সংযুক্তিকরণ নিয়ে দলের কর্মী থেকে নেতা সকলের প্রশ্নের উত্তর দিতে গত কয়েক মাসে জেরবার হয়েছি। সরকার ওই সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে আসায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি।”

গত বছর রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, উত্তরপাড়া থেকে বাঁশবেড়িয়া পর্যন্ত হুগলির গঙ্গা পাড়ের মোট ১১টি পুরসভাকে সংযুক্ত করে একটি পুরসভা গঠন করা হবে। এবং সেই পুরসভাকে কর্পোরেশনের মর্যাদা দেওয়া হবে। সিদ্ধান্তের কথা জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয় এবং শিলমোহরের জন্য তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় রাজ্যপালের কাছে। ওই সিদ্ধান্তের পিছনে সরকারের যুক্তি ছিল, নতুন ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বহু টাকা মিলবে। তাতে এলাকায় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে। প্রশাসনিক কাজকর্মেরও সুবিধা হবে। ছোট ছোট পুরসভা থাকলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা তত মেলে না। টাকার অভাবে অনেক উন্নয়নের কাজ করা যায় না।

কিন্তু সিদ্ধান্ত হলেও তার পরে আর পুরসভাগুলির সংযুক্তিকরণের কাজ সে ভাবে এগোয়নি বলে জেলা প্রশাসনই জানিয়েছে। এ নিয়ে জল্পনাও কম হয়নি। তৈরি হয়েছিল নানা আশঙ্কাও। তার মধ্যেই রাজ্যে সারদা-কাণ্ড নিয়ে বিস্তর জলঘোলা শুরু হয়ে যায়। সিবিআই ধরপাকড় শুরু করে। একে একে সাংসদ এবং মন্ত্রী গ্রেফতার হন। দলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুরু করেন। দিন কয়েক আগে মন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরও মন্ত্রিত্ব ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তাতে দলের বিড়ম্বনা আরও বহু গুণ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে এই বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতেই সব দিক বিবেচনা করে পুরসভার সংযুক্তিকরণ থেকে পিছিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তৃণমূলের অন্দরের খবর।

দলের রাজ্য নেতৃত্বের একটি সূত্রে আশঙ্কা ছিল, হুগলির ১১টি পুরসভাকে একছাদের তলায় নিয়ে আসা হলেও অন্য সমস্যা মাথা চাড়া দিত। ওই পুরসভাগুলিতে অন্তত ২৮০ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। ১১টি পুরসভার ১০ চেয়ারম্যান এবং একজন মেয়র রয়েছেন। নতুন ব্যবস্থায় একজন মাত্র মেয়র হতেন। বাকিদের চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ থাকত না। তাঁরা ক্ষুব্ধ হতেন। পুর নির্বাচনের মুখে তাঁদের কেউ বিদ্রোহী হতেই পারতেন। অন্য দলে নাম লেখালেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকত না। তখন দল বিড়ম্বনায় পড়ত। তার পুরোপুরি সুযোগ নিত বিরোধী দলগুলি। তাতে পুর নির্বাচনের ভোটের ফলে প্রভাব পরার সম্ভাবনা ছিল। তা ছাড়া, নতুন ব্যবস্থা ভোটাররা কেমন ভাবে নেবেন ছিল সেই প্রশ্নও।

পুরসভাগুলির এখনই সংযুক্তিকরণ না হওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন জেলা তৃণমূল নেতারা। পুর নির্বাচনের জন্য দলের সর্বস্তরে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন