ভাস্তারার হোমে আবাসিক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত সিমসন ইসলামকে তারা হেফাজতে নিতে চায়নি। যদিও সিমসনের মা শান্তা ইসলাম মালদহে একই ধরনের হোম চালান কি না, সে প্রশ্নের  কোনও নিশ্চিত উত্তর নেই হুগলি জেলা পুলিশের কাছে। তার উপরে যে গুড়াপের এক হোমে গুড়িয়া-কাণ্ড হয়েছিল, সেখানে একই থানা এলাকায়  পুলিশ-প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ভাস্তারার হোমটি চলছিল কী করেএ প্রশ্নেরও জবাব মেলেনি এখনও। সেই সূত্র ধরেই  এ বার বিরোধী-নিশানায় এসেছে হুগলি পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা।

বুধবার চুঁচুড়া আদালতে হাজির করা হলে জেলা পুলিশ ধৃত সিমসন ইসলামকে নিজেদের হেফাজতে না চাওয়ায় সিজেএম সিমসনকে  ১৪ দিন জেল-হাজতে রাখার নির্দেশ দেন। জেলার বিজেপি নেতা স্বপন পালের বক্তব্য, “গুড়াপে গুড়িয়ার হোমে এর আগে এক আবাসিক মহিলাকে ধর্ষণ করে খুনের পরে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে ওই হোমের অন্য এক আবাসিকের কঙ্কাল দামোদরের চর থেকে উদ্ধার করেছিল সিবিআই।” ওই বিজেপি নেতার ক্ষোভ “জেলায় আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটে গেলেও পুলিশের সম্বিত ফেরেনি। না হলে ওরা ভাস্তারা হোমের কর্ণধারকে নিজেদের হেফাজতে চাইল না কেন? লোকটাকে জেরা করে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসত না, তা কে বলতে পারে?”

ভাস্তারার যে হোমটি সিমসন ইসলাম চালাতেন, সেই হোমটিতে মালদহের বাসিন্দা একাধিক কিশোর থাকে। মালদহে ইসলাম পরিবার পরিচালিত হোমের কথা তাদের অনেকের জানা। বিশদ বলতে না পারলেও সংবাদমাধ্যমের কাছে তারা দাবি করেছে, মালদহের হোমটি চালান সিমসনের মা শান্তা ইসলাম। মালদহ জেলা প্রশাসন সূত্রে অবশ্য খবর, ইসলাম পরিবার পরিচালিত কোনও নথিভুক্ত হোম রয়েছে বলে তাদের জানা নেই। হুগলি জেলা পুলিশ অবশ্য মালদহ পর্যন্ত পৌঁছয়নি। জেলা পুলিশের এক কর্তা দাবি করেছেন, মালদহের হোমের সঙ্গে সিমসনের পরিবারের কোনও যোগাযোগের কথা এ পর্যন্ত তাঁদের জানা নেই। কিন্তু ঘটনা হল, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ওই কিশোর আবাসিকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথাই বলেনি পুলিশ।

গুড়িয়া-কাণ্ডের পরেই  জেলায় জেলায় সব হোমের আবাসিকদের সমস্যা-অবস্থা দেখভালের জন্য নজরদারি কমিটি গড়া নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের তরফে নড়াচড়া শুরু হয়। সেই সময়ই ঠিক হয়েছিল, আবাসিকদের সমস্যা প্রতিকারে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ব্যবস্থা করবে ওই কমিটি। হুগলি জেলায় সে কমিটির কী হল? জেলা সমাজকল্যাণ দফতরের দাবি, সে কমিটি তার নিজের কাজ ঠিকঠাকই করছে। তা হলে ভাস্তারার হোমটি গত বছর তিনেক সবার নজর এড়িয়ে চলল কী করে? এই প্রশ্নের জবাবে আমতা-আমতা করেছেন হুগলি জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিক প্রফুল্লকুমার দে।

সিপিএমের জেলা সম্পাদক সুদর্শন রায়চৌধুরীর টিপ্পনী, “রাজ্যে পুলিশ-প্রশাসনের সার্বিক অবস্থা যেমন, তার একটা প্রভাব যে এ জেলাতেও পড়বে তাতে আর অবাক হওয়ার কী আছে! গুড়াপে গুড়িয়া-কাণ্ডের পরে ফের এমন ঘটল কী করে, তার নিশ্চয়ই জবাব নেই জেলা পুলিশ-প্রশাসনের কাছে। এ রকম যে রোজ কিছু ঘটছে না, সেটাই আশ্চযের্র বিষয়।”

জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা অবশ্য বলেন, “ধৃতকে হেফাজতে না নিলে, তার সঙ্গে কথা বলার কোনও সুযোগ তদন্তকারী অফিসারের থাকছে না, এমনটা নয়। পুলিশ চাইলেই আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে ধৃতের সঙ্গে জেল-হেফাজতে গিয়েই কথা বলতে পারে।”

তা হলে সিমসনকে হেফজাতে চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা িsছল না? সরাসরি জবাব না দিয়ে ওই পুলিশ-কর্তার দাবি, “ধৃত ব্যক্তি তদন্তকারী অফিসারের কাছে অপরাধ কবুল করেছে। ওই নাবালিকা এবং ধৃতের ডাক্তারি-পরীক্ষা হয়েছে। তদন্ত ঠিক পথেই এগোচ্ছে।”