কোনও অবরোধ নেই। তবুও আমতা শহরে পা দিলে মনে হবে শহর যেন অবরুদ্ধ। শহরের দু’টি প্রধান রাস্তার একটি কলাতলা মোড় থেকে সিনেমাতলা মোড় পর্যন্ত গিয়েছে। প্রশস্ত না হওয়ায় যানজটের কবলে পড়ে যা চলাচলের অযোগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্য রাস্তাটি কলেজ রোড। দীর্ঘদিন ধরে কোনও মেরামতি না হওয়ায় সেখানেও একই অবস্থা।

গ্রামীণ হাসপাতাল, ব্লক প্রশাসন, সিটিসি বাসস্ট্যান্ড, মেলাইচণ্ডী মন্দির, বাজার, পীতাম্বর হাইস্কুল, আমতা বালিকা বিদ্যালয়, নিত্যানন্দ হাইস্কুল, আমতা অডিটোরিয়ামে আসতে হলে কলাতলা মোড় থেকে সিনেমাতলা মোড় পর্যন্ত রাস্তাটিই ভরসা। কিন্তু সরু রাস্তার কারণে সবসময়েই যানজটের কবলে। বিশেষ করে সিটিসি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে সিনেমাতলা মোড় পর্যন্ত অংশ। পাকা অপরিসর এই রাস্তার দু’দিকে রয়েছে অসংখ্য দোকান। ব্যবসায়ীরা তো বটেই, রাস্তার ফুটপাথ দখল করে নিয়েছেন আনাজ বিক্রেতা, ফুল বিক্রেতারা।  তা ছাড়া বহু বড় দোকানের  জিনিসপত্রও ডাঁই হয়ে থাকে ফুটপাথে। সকালের দিকে এই রাস্তায় যাতায়াতই দুষ্কর। তখন আনাজ ব্যবসায়ীদের ভিড়ে পথচারীদের প্রাণান্তকর অবস্থা।

বেলা ১০টার পর রাস্তা চলে যায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের দখলে। সাইকেল নিয়ে সার বেঁধে স্কুলমুখো ছাত্রছাত্রীদের যাওয়াআসায় যানজটের চিত্র আর বদলায় না। সন্ধ্যায় নিত্যযাত্রীদের ঘরে ফেরার সময়েও একই অবস্থা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফুটপাথটি দখলমুক্ত করতে পারলেই যানজটের এই ছবি বদলাতে পারে। আমতার প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক আফতাবউদ্দিন মণ্ডল এবং আমতা সিটিজেনস ফোরামের পক্ষে ফটিক চক্রবর্তী বলেন, “প্রশাসন, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানসূত্র বের করতে হবে। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কেউই সেই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত উদ্যোগী হয়নি।” ব্লক প্রশাসনের একটি সূত্রে অবশ্য জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ীদের কবল থেকে ফুটপাথকে মুক্ত করার জন্য একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন মহলের চাপে তা আর কার্যকর করা যায়নি। একই অভিযোগ তুলেছেন এলাকার মানুষও।

কলেজ রোডের সমস্যা আবার অন্য। কলাতলা মোড় থেকে তৈরি হয়েছে নতুন রাস্তা। এই রাস্তা চলে গিয়েছে দামোদরের উপরে ভারতচন্দ্র সেতু পর্যন্ত। সেতু পার হয়ে  রাস্তা চলে গিয়েছে উদয়নারায়ণপুর পর্যন্ত। নতুন রাস্তা থেকে দামোদরের পূর্ব দিকের বাঁধ ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলে আমতা শহরে। সেই কারণে বাঁধের উপরে পিচ ঢেলে পাকা রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল প্রায় তিরিশ বছর আগে।


দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল কলেজ রোড।

শহরে ঢোকার একটি বাইপাস রাস্তা হিসাবেই সেই সময় এটিকে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন এই রাস্তা ধরে সরাসরি আসা যায় আমতা রামসদয় কলেজ, আদালত, থানা, মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, মহকুমা গ্রন্থাগারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাও মেরামত না হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেল রাস্তার উপরে পিচ নেই। ইট ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। এই রাস্তার দু’দিকেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকান। ব্যবসায়ীরা সরাসরি জানালেন তাঁদের ক্ষোভের কথা। সাধন পাত্র নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, “রাস্তার যে হাল হয়েছে তাতে গাড়ি চললেই ধুলো ওড়ে। নাকে রুমাল চেপে দোকানে বসে থাকতে হয়।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুবার রাস্তাটি মেরামতের জন্য বিভিন্ন মহলে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি। অথচ এই রাস্তার উপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে অসংখ্য সাইকেল, রিকশা, মোটরবাইক, লরি-সহ অন্যান্য গাড়ি। খারাপ রাস্তার জন্য দুর্ঘটনাও ঘটে। কিন্তু প্রশাসন নির্বিকার।

কলাতলা মোড় থেকে সিনেমাতলা মোড় পর্যন্ত রাস্তার হাল কী ভাবে ফিরবে তা নিয়ে প্রশাসনিক কর্তারা কোনও আশ্বাস দিতে না পারলেও কলেজ রোডের হাল ফিরতে চলেছে। এই রাস্তাটি মেরামত করার কথা সেচ দফতরের। ওই দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, রাস্তাটি কংক্রিট দিয়ে বাঁধানো হবে। এর জন্য ৮৮ লক্ষ টাকা অনুমোদিত হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

 

(চলবে)
ছবি: রমাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় ও সুব্রত জানা।