• logo
  • গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ট্রেন থেকে বাস, সুষ্ঠু পরিবহণ চায় এই শহর

1-1
যাত্রীদের জন্য শেডের অভাব স্টেশনে।
  • logo

Advertisement

হাওড়া থেকে দূরত্ব মেরেকেটে ৪৭ কিলোমিটার। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা কখনও আধঘণ্টা, কখনও বা এক ঘণ্টা। রাত বাড়লে পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন। কেন না, আদৌ আর বাড়ি ফেরা যাবে কি না তা নিয়েই তৈরি হয় সংশয়।

কলকাতার কর্মস্থল থেকে হুগলির এই শহরে ফিরতে নিত্য এমন আশঙ্কাতেই থাকতে হয় যাত্রীদের। আর এই কারণেই শহরের অন্যান্য সমস্যার চেয়ে একে নিয়েই সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথা শহরবাসীর। 

রুজির তাগিদে শহরের শ’য়ে শ’য়ে মানুষ নিত্য কলকাতায় যান। সময়ে পৌঁছতে যাওয়া-আসায় ট্রেনই ভরসা। কিন্তু যত কাণ্ড ফের নিজের শহরে ফেরার সময়েই।

হাওড়ায় রাত ১০টা ১০ মিনিটের ট্রেন না পাওয়া গেলেই সমূহ বিপদ। রেলের টাইম টেবিলে অবশ্য এরপরও ট্রেন আছে মগরার পথে। আপ মোকামা। কিন্তু দূরপাল্লার এই ট্রেন স্টেশনে পৌঁছয় রাত পৌনে একটায়। কোনওমতে স্টেশনে পৌঁছলেও এবং কাছাকাছি বাড়ি না হলে স্টেশনে রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে বাড়ি ফেরাটা অনেকের কাছেই পরিচিত ঘটনা। কারণ অত রাতে রিকশা বা অন্য যান মেলে না।

এ জন্য রেলের উপরে ক্ষোভও রয়েছে এ শহরের মানুষের। এমনই এক বাসিন্দার কথায়, “রাতের যাত্রীদের জন্য একটা পাণ্ডুয়া লোকাল ছিল। কিন্তু কথায় বলে, ‘পাগলা শেয়াল, আর রাজার খেয়াল’ দূরত্ব রাখা ভাল। যেই এই রাজ্যের রেলমন্ত্রী কেউ রইলেন না, তখন ট্রেনটির উপযোগিতা নিয়ে ভাবার প্রয়োজনও ফুরাল। তুলেই দেওয়া হল ট্রেনটি। এমনটা বোধহয় এখানেই সম্ভব। যাত্রীরা যেন ফালতু।”

যান চলাচলের জন্য সাবওয়ে থাকলেও যাত্রীদের জন্য তার বালাই নেই।

অন্য সমস্যার মধ্যেও কয়েকটি রেলকে কেন্দ্র করেই। স্টেশন ছেড়ে বাইরে যাওয়ার জন্য নেই সাবওয়ে বা বাইপাস রাস্তা। চলার জন্য বাধ্য হয়েই রেললাইন পারাপার করতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। আর তাই দুর্ঘটনাও নিত্যসঙ্গী। যখন এ রাজ্যের রেলমন্ত্রী ছিল তখন স্টেশনের আপ ও ডাউন প্ল্যাটফর্মে শেড হয়েছে। ওয়েটিং রুমের পাশাপাশি শৌচাগার ওভারব্রিজের ছাউনিও হয়েছে। আবার নেই-এর তালিকাও কিছু  কম নয়। গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন হলেও নেই দূরপাল্লার টিকিট রির্জাভেশন কাউন্টার। যদিও প্রচার রয়েছে ভালভাবেই। স্টেশন চত্বরে গুড্স শেড আর এক সমস্যা। কারণ ট্রাকে মালপত্র খালাস করার পরিকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। টানা তিন দশক জুড়ে রেল পুলিশ মগরা স্টেশনের ডাউন প্লাটফর্মের ওয়েটিং রুম দখল করে রেখেছিল। রত্না দে নাগের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত সেটি মুক্ত  হওয়ায় যাত্রী বিশেষ করে মহিলাদের সুবিধা হয়েছে।

মগরা স্টেশনের সার্বিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে ডিভিশনাল রেলওয়ে ইউজারস কনস্টালটেন্সি কমিটির সদস্য রঘুনাথ ভৌমিকের বক্তব্য, “নতুন একটি টিকিট কাউন্টার হয়েছে। কিন্তু দিনের ব্যস্ত সময়ে উন্নত পরিষেবার স্বার্থে আরও কিছু প্রয়োজন। নিত্যযাত্রীদের তরফে আমরা রেলকে এ ব্যাপারে চিঠি দিয়েছি। কাজ হয়নি।”

নেই কোনও স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড।

শুধু রেল নয়, জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে শহরবাসীর ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয় পরিবহণ নিয়েও। মগরায় স্টেশন চত্বর থেকে শহরের অন্যত্র বাস, অটো বা অন্য যানবাহন পাওয়া আজও সুলভ হয়ে ওঠেনি। রাত বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে দাঁড়ায়।

পরিবহণকে ঘিরে একটি সার্বিক পরিকল্পনার দাবি শহরবাসীর দীর্ঘদিনের। দিনের পর দিন সে সব নিয়ে নানা ক্ষোভ-বিক্ষোভ হলেও কি রেল, কি জেলা প্রশাসন সেদিকে কারওই নজর পড়েনি। আর তাই হতাশ এক বাসিন্দার কথায়, “পরিবর্তনের রাজ্যে মগরা আজও ব্রাত্যই থেকে গিয়েছে।”

 

(চলবে)

ছবি: তাপস ঘোষ।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন