বামেদের ডাকা ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেন। দুই জেলাতেই অবরোধ তেমন হয়নি। বুধবার বন্‌ধ সমর্থকেরা মূলত মিছিলের উপরেই জোর দিয়েছিলেন। গোলমালের খবরও সে ভাবে মেলেনি। বেশিরভাগ দোকানপাট, অফিস, স্কুল-কলেজ খোলা ছিল। যান চলাচল করেছে স্বাভাবিক ভাবেই। ফলে, পথে বেরিয়ে মানুষকে মঙ্গলবারের মতো দুর্ভোগে পড়তে হয়নি। 

হুগলিতে বুধবার পূর্ব রেলের হাওড়া-বর্ধমান মেন ও কর্ড শাখার কোথাও অবরোধ হয়নি। তবে, তারকেশ্বর ও কাটোয়া শাখার কয়েকটি স্টেশনে কিছুক্ষণের জন্য অবরোধ হয়। সকালে উত্তরপাড়া, কোন্নগর, শ্রীরামপুর, ডানকুনি, চন্দননগর, ব্যান্ডেল, হুগলি-সহ বিভিন্ন এলাকায় বাম সমর্থকেরা মিছিলে পা মেলান।

শ্রীরামপুরের জিটি রোডে শ্রমিক-কৃষক ভবন থেকে একটি মিছিলে নেতৃত্ব দেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী সুদর্শন রায়চৌধুরী। উত্তরপাড়ায় শখের বাজার থেকে বামেদের একটি মিছিল যায় গৌরী সিনেমা হল পর্যন্ত। নেতৃত্বে ছিলেন উত্তরপাড়ার দুই প্রাক্তন বিধায়ক শ্রুতিনাথ প্রহরাজ এবং জ্যোতিকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়। মিছিল শেষে মঙ্গলবার শ্রুতিনাথবাবুকে হেনস্থার প্রতিবাদে উত্তরপাড়া থানায় একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সকালে বলাগড়ের ডুমুরদহে সিপিএম কর্মীরা অসম লিঙ্ক রোড অবরোধ করেন। পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। মঙ্গলবার হুগলি স্টেশনে রেল অবরোধের অভিযোগে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছিল। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে হুগলিতে প্রতিবাদ-মিছিল হয়। আরামবাগে মিনিট দশেক রেল অবরোধ ছাড়া জীবনযাত্রা মোটের উপর স্বাভাবিক ছিল। দূরপাল্লার বাসও চলেছে। ভদ্রেশ্বরের কয়েকটি জুটমিলে শ্রমিকদের হাজিরা কম ছিল।

বামেদের পাশাপাশি এ দিন শাসকদলও রাস্তায় নেমেছিল। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৯ জানুয়ারির ব্রিগেডে সমাবেশের সমর্থনে মিছিল করে তৃণমূল। শাসক-বিরোধীদের এই তাল ঠোকাঠুকিতে এ দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা সরগরম ছিল।

হাওড়া গ্রামীণ এলাকাও প্রায় স্বাভাবিক ছিল। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়্গপুর ডিভিশনে ট্রেন চলেছে অন্য দিনের মতোই। বেসরকারি কারখানাগুলিতেও উপস্থিতির হার ছিল ভালই। তবে, এ দিন উলুবেড়িয়ার অধিকাংশ চটকল বন্ধ ছিল। বন্‌ধের সমর্থনে সকালে উলুবেড়িয়ায় একটি মিছিল বেরোয়। তবে, কোনও অশান্তি হয়নি। রাস্তায় অবশ্য সাধারণ মানুষ কম বের হন।