ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মেলেনি। থানায় খুনের অভিযোগও দায়ের হয়নি। কিন্তু গোঘাটের কোটা গ্রামের দলীয় নেতা কাশীনাথ ঘোষের অপমৃত্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে আরও সুর চড়াল বিজেপি।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পরে সোমবার কাশীনাথবাবুর মৃতদেহ নিয়ে গ্রামে ফেরার পথে গোঘাট থানার সামনে খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে অবরোধ করে বিজেপি। রাস্তায় মৃতদেহ রেখে বিকেল পৌনে ৫টা থেকে মিনিট কুড়ি অবরোধের জেরে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ তদন্তের আশ্বস দিলে অবরোধ ওঠে। দুপুরে দলের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে আরামবাগের গৌরহাটি মোড়ে এসে বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহও এই খুনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল খুন করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপায় কিংবা আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। কাশীনাথকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করেও অন্য গল্প ফাঁদতে চাইছে। অবিলম্বে ওই খুনের কিনারা চাই।’’ তৃণমূল প্রথম থেকেই অভিযোগ মানেনি।পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও হাতে পাওয়া যায়নি। মৃতের পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত চলছে।

দিন সাতেক আগে খুন হন গোঘাটের দড়িনকুণ্ডা গ্রামের এক তৃণমূল কর্মী। রবিবার সকালে সেই ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপির কোটা গ্রামের বুথ সভাপতি কাশীনাথের মৃতদেহ মেলে তাঁর বাড়ি থেকে দু’কিলোমিটার দূরে, দলকার জলার নিকাশি নালা থেকে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে পিটিয়ে, চুবিয়ে কাশীনাথবাবুকে খুনের পাল্টা অভিযোগ তোলে বিজেপি এবং মৃতের পরিবার। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ীই সোমবার গৌরহাটিতে এসেছিলেন রাহুলবাবু। তার আগে তিনি শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ করেন। কিন্তু গৌরহাটি থেকেই তিনি কলকাতায় ফিরে যাওয়ায় গোঘাটের বিজেপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা চেয়েছিলেন, রাহুলবাবু মৃত কাশীনাথবাবুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করুন এবং কর্মী-সমর্থকদের সাহস জুগিয়ে যান। এ নিয়ে বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষের দাবি, ‘‘আরামবাগের পরে অন্যত্র আরও কিছু পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি থাকায় রাহুলবাবুকে চলে যেতে হয়েছে।”