• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাল্টা লাঠি বাহিনীর

ডিজে বাজানো নিয়ে হুলস্থুল

police
ধরপাকড়: শ্রীরামপুরের নেহরুনগর কলোনিতে তল্লাশি— নিজস্ব চিত্র।
বিয়েবাড়িতে ডিজে বাজানোকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল শ্রীরামপুরের নেহরুনগর কলোনিতে। শব্দ-দানবের তাণ্ডব রুখতে গিয়ে মার খেতে হল পুলিশকে। পাল্টা লাঠি চালানোর অভিযোগও উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ডিজে বক্স।

পুলিশ অবশ্য লাঠি চালানোর অভিযোগ মানেনি। চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘‘ওখানে তারস্বরে ডিজে বাজায় মানুষের অসুবিধা হচ্ছিল। বন্ধ করতে বললে পুলিশকে মারধর করা হয়। কয়েক জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। এ ব্যাপারে আইন মোতাবেক কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ডিজে বাজানো কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। এটা কার্যকর করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’’ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যা থেকেই এলাকার একটি বিয়েবাড়িতে ডিজে বাজানো হচ্ছিল। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ একটি পিকআপ ভ্যানের উপরে পেল্লায় ডিজে বক্স বাজিয়ে শোভাযাত্রা হচ্ছিল। প্রায় আড়াইশো পুরুষ-মহিলা সেখানে ছিলেন। অভিযোগ, ডিজের আওয়াজে অতিষ্ট হচ্ছিলেন স্থানীয় মানুষ। খবর পেয়ে শ্রীরামপুর থানার জনা ছয়েক পুলিশকর্মী সেখানে যান। তাঁরা ডিজে বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু বিয়েবাড়ির লোকেরা তাতে কান দেননি। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে।

অভিযোগ, তখনই পুলিশকর্মীদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন বিয়েবাড়ির লোকেরা। লাঠি, বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়। ইট ছোড়া হয়। এক কনস্টেবলকে টেনে নিয়ে গিয়ে পেটানো হয়। এক সাব-ইনস্পেক্টরের হাতে কামড়ে দেন এক মহিলা। খবর পেয়ে আরও কয়েক জন পুলিশকর্মী ঘটনাস্থলে যান। তাতেও জনতাকে বাগে আনা যায়নি। এক মহিলা পুলিশকর্মী -সহ অন্তত ছ’জন জখম হন বলে পুলিশের দাবি। এরপর আইসি দিব্যেন্দু দাসের নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী গিয়ে লাঠি চালায় বলে অভিযোগ। পাঁচ মহিলা-সহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। জখম একাধিক পুলিশকর্মীর শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়।
 
রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশকর্মীরা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে গাড়িতে তুলছে। ইতিউতি জটলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ওই এলাকায় উৎসব-অনুষ্ঠানে প্রায়ই তারস্বরে ডিজে বাজে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, পুলিশের কাজে বাধাদান, বিনা অনুমতিতে এবং হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে বক্স বাজানো-সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার ধৃতদের শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁদের আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। ওই দিন মামলার কেস ডায়েরি পুলিশকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কংগ্রেস নেতা উদয় ওরফে রানা ভৌমিক বলেন, ‘‘ডিজে বাজানো অনুচিত হয়েছে। সেই ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু পুলিশ বাড়ি বাড়ি ঢুকে লোকজনকে টেনে বের করে প্রচণ্ড লাঠিপেটা করেছে। এই অত্যাচার কেন? এর বিহিত কে করবে?’’ কমিশনারেটের এক কর্তা অবশ্য বলেন, ‘‘গ্রেফতার করে আনার সময় ধস্তাধস্তি হয়ে থাকতে পারে। লাঠি চালানো হয়নি।’’ ডিজে বন্ধে পরিবেশকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই সরব। তাঁদের দাবি, ডিজে বক্স যাঁরা ভাড়া দেন, তাদেরও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া উচিত। বাজেয়াপ্ত হওয়া বক্স যাতে ফেরত না দেওয়া হয়, সেই ব্যবস্থা করা দরকার। সিপি জানান, কমিশনারেটের তরফে আগেই বলা হয়েছিল, ডিজে বাজেয়াপ্ত করা হলে তা যাতে মালিক ফেরত না পান, আইনি পদ্ধতিতে সেই ব্যবস্থা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সেই চেষ্টা করা হবে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন