ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পরেও হাওড়া জুটমিল খোলার সমাধানসূত্র মিলল না। কর্মীদের বকেয়া অর্থ দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য মিল কর্তৃপক্ষ আরও তিন দিন সময় নেওয়ায় কর্মীরা জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত তাঁরা কাজে যোগ দেবেন না।

বিক্ষোভকারী শ্রমিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাজ্য শ্রম দফতরে বৈঠক করেন অতিরিক্ত শ্রম কমিশনার ও মিল কর্তৃপক্ষ। পরে বেঙ্গল জুট শ্রমিক সঙ্ঘ (বিজেএসএস)-এর সহ সভাপতি সুদামা চৌধুরী বলেন, ‘‘কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন পিএফ, গ্র্যাচুইটি-সহ যত টাকা বকেয়া, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে তিন দিন সময় দিতে হবে। তবে আগে মিল চালু করতে হবে। আমরা জানিয়েছি, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত জানার পরেই মিল খোলা হবে।’’

সাড়ে তিন হাজার কর্মীর এই জুটমিলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পিএফ, গ্র্যাচুইটির টাকা জমা না দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগে গত শনিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকেরা। মিলের গেট বন্ধ করে কর্তৃপক্ষকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন এলাকার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়। তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু শ্রমিকদের মিল চালু করতে হবে।

তবে মন্ত্রী বলার পরেও কর্মবিরতি ওঠেনি। শ্রমিক সংগঠনের তরফে খবর, এ দিনের বৈঠকে যে পাঁচটি দাবি তোলা হয় সেগুলি হল: ১) দু’বছরের বকেয়া স্ট্যাটুটরি লিভ বা সবেতন ছুটি চালু করতে হবে; ২) মাসে দু’দফায় পুরো বেতন মেটাতে হবে; ৩) পিএফ থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে; ৪) ২০১২ থেকে বকেয়া গ্র্যাচুইটি দিতে হবে; ৫) বকেয়া দাবি করায় সরল মিয়াঁ নামে যে কর্মীকে বসিয়ে দেওয়া 

হয়েছে, তাঁকে বিনা শর্তে চাকরিতে ফেরাতে হবে ও তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট তুলতে হবে।

এ দিনের বৈঠকে ছিলেন অতিরিক্ত শ্রম কমিশনার অরুণ ভট্টাচার্য ও হাওড়ার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি শ্রম কমিশনার আশিস সরকার। শ্রম দফতর সূত্রের খবর, এ দিনের আলোচনার পরেও সমস্যা না মেটায় এক সপ্তাহ পরে ফের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে।