তিনদিন উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকার পরে রবিবার দুপুরে গণিতের গবেষক নির্মাল্য বরাটের (৪৭) দেহ বাড়িতে নিয়ে গেলেন তাঁর আত্মীয়েরা। এক জেঠার সঙ্গে দেহ নিতে এসেছিল নির্মাল্যবাবুর একমাত্র ছেলে অর্ঘ্যদীপ।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়্গপুর বিভাগের দেউলটি এবং ঘোড়াঘাটা স্টেশনের মাঝামাঝি একটি জায়গা থেকে পুলিশ নির্মাল্যবাবুর দেহটি উদ্ধার করে। 

এ দিন তাঁর মৃতদেহ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই করেন নির্মাল্যবাবুর জেঠতুতো দাদা দেবাশিস বরাট এবং আরও কয়েকজন আত্মীয়। সঙ্গে ছিল অর্ঘ্যদীপ। 

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময়ে নির্মাল্যবাবুর পরনে ছিল কালো এবং হলুদের ছাপ দেওয়া ফতুয়া এবং পাজামা। তাঁর পকেট থেকে পুলিশ একটি চাবি, নগদ কুড়ি টাকা এবং একটি চিরকুট উদ্ধার করে। 

চিরকুটে তাঁর স্ত্রী, ছেলের নাম ও ফোন নম্বর লেখা ছিল। নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকে দেহটি উদ্ধার হওয়ার সময় পর্যন্ত প্রায় ১১দিন নির্মাল্যবাবু কোথায় ছিলেন, কেনই বা তিনি দেউলটির দিকে এসেছিলেন তা নিয়ে অন্ধকারে রয়েছেন তাঁর পরিবারের লোকজন। পকেটে কেন চিরকুটে নাম ফোন নম্বর লিখে রেখেছিলেন তা নিয়েও  উঠছে প্রশ্ন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ অগস্ট সন্ধ্যায় নির্মাল্যবাবু বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু বলে জানানো হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টে ১৫ মিনিটে বাগনান স্টেশন থেকে রেল পুলিশের কাছে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মেমো দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে 

পুলিশ ও নির্মাল্যবাবুর পারিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের পৈতৃক বাড়ি বেহালা সখের বাজারের নৃসিংহ দত্ত রোডে। সেখানে থাকেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা। বছর তিনেক আগে ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে বাঁশদ্রোণী থানার গোষ্ঠপুরের ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু  করেন নির্মাল্যবাবু।