• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আড্ডায় নিষেধ করায় পুলিশের সঙ্গে তর্ক, গ্রেফতার কাউন্সিলর

tmc councillor
গ্রেফতার হওয়া কোন্নগরের তৃণমূল কাউন্সিলর তন্ময়। — ফাইল ছবি

সরকারি নিষেধাজ্ঞায় গা করেননি শাসকদলের এক কাউন্সিলর। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের মধ্যেও রোজকার মতোই মিষ্টির দোকা‌নে আড্ডা জমিয়েছিলেন। নিষেধ করেছিল পুলিশ। তাতে বেজায় চটে যান তিনি। পুলিশের সঙ্গে তর্ক এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে তন্ময় দেব নামে হুগলির কোন্নগর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ওই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ওয়ার্ডেরই মনসাতলা থেকে তাঁকে ধরা হয়। মঙ্গলবার সকালে ওই নেতা থানা থেকে ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেলেও গোটা ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘‘পুলিশ বার বার জমায়েতে নিষেধ করছে। এরপরও যাঁরা উপেক্ষা করছেন তাঁদের গ্রেফতার করে প্রতিটি ক্ষেত্রে পুলিশ মামলা করছে। পরিস্থিতি যা, তাতে কঠোর হওয়া ছাড়া কোনও রাস্তা খোলা নেই।’’

এক বছর আগে কোন্নগরেরই নবগ্রামের একটি কলেজে এক শিক্ষককে হেনস্থার ঘটনাতেও ওই কাউন্সিলরের নাম জড়িয়েছিল। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানেও পৌঁছয়। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি ওই শিক্ষককে ফোন করে দুঃখপ্রকাশ করেন। এ বার আপৎকালী‌ন পরিস্থিতিতেও বিতর্কে জড়ালেন ওই তৃণমূল কাউন্সিলর।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সোমবার বিকেল থেকে ‘লকডাউন’ চলছে। অপ্রয়োজনে মানুষ যাতে বাড়ির বাইরে না থাকেন,  তা নিশ্চিত করতে পথে নামে পুলিশ। চন্দননগর কমিশনারেট সূত্রের খবর, কোন্নগরেও টহল দিচ্ছিল পুলিশ। রাত ১০টা নাগাদ মনসাতলার বেশ কিছু দোকান পুলিশ বন্ধ করে দেয়। তার মধ্যে একটি মিষ্টির দোকানও ছিল। আধ ঘণ্টা পরে পুলিশকর্মীরা ফিরে এসে দেখেন, ওই মিষ্টির দোকানটি ফের খুলেছে। সেখানে রীতিমতো আড্ডা জমেছে। পুলিশ ফের ওই দোকান বন্ধের জন্য বলে। অভিযোগ, সেই সময় আড্ডার ‘মধ্যমণি’  তন্ময় পুলিশের সঙ্গে বচসা জুড়ে দেন। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর পরেই তন্ময়কে ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতভর ফাঁড়িতেই ছিলেন তিনি। সকালে সেখান থেকে জামিন পান।

তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অবশ্য তন্ময় আমল দেননি। মঙ্গলবার এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘‘এমন কিছুই ঘটেনি। আমাকে পুলিশ কোথাও নিয়েও যায়নি।’’

কিন্তু তাঁর দল যে বিষয়টি ভাল ভাবে নিচ্ছে না তা নেতৃত্বের কথাতেই স্পষ্ট। কোন্নগরের পুরপ্রধান বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এখন জরুরি পরিস্থিতি চলছে। আমরা মানুষকে বুঝিয়ে ঘরে ঢোকানোর কাজ করছি। পুলিশ দিনরাত রাস্তায় নেমে কাজ করছে। ওই কাউন্সিলরের আচরণ সমর্থনযোগ্য নয়। দলও ওঁর এই কাজ সর্মথন করে না।’’  জেলা তৃণমূল সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন, ‘‘ওই কাউন্সিলর মাঝেমধ্যে এমন কাজ করছেন, যাতে দল বিব্রত হচ্ছে। জনমানসে দলের সম্পর্কে বিরুদ্ধ বার্তা যাচ্ছে। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই আমি এ নিয়ে দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট পাঠাব।’’

চন্দননগর কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শুধু ওই কাউন্সিলর নন,  বিভিন্ন ঘটনার পুলিশের নিষেধ উপেক্ষা করে বাইরে বের হওয়ার অভিযোগে উত্তরপাড়া থানা এলাকায় সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন