• প্রকাশ পাল
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রেখচিত্র ঊর্ধ্বমুখী, সচেতনতায় জোর

Covid-Crisis
স্ট্র্যান্ড চত্বরে কন্টেনমেন্ট জ়োনের বোর্ড লাগানো হয়েছে। ছবি: তাপস ঘোষ

এক থেকে হাজারে পৌঁছতে সময় নিয়েছিল ৩ মাস। পরের হাজারের গণ্ডি পেরোয় ১৯ দিনে। তিন হাজার ছুঁতে সময় নিয়েছে মাত্র ৯ দিন।

রাজ্য সরকারের করোনা সংক্রান্ত বুলেটিন বিশ্লেষণ করে হুগলিতে সংক্রমণের এই রেখচিত্র সামনে এসেছে। মঙ্গলবারের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩,০৮৪। তার মধ্যে দু’হাজার মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন জুলাই মাসে। সংক্রমণ কী হারে বাড়ছে, এই তথ্য থেকেই তা পরিস্কার।

এই মুহূর্তে আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে রাজ্যে হুগলির স্থান পাঁচে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনার থেকে বেশ কিছুটা পিছনে থাকলেও ঊর্ধ্বমুখী করোনা-রেখচিত্র দেখে প্রশাসন চিন্তিত। এই পরিস্থিতিতে করোনাকে বাগে আনতে একমাত্র লকডাউন কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন। তাঁদের ধারণা, আনলক পর্বে এক শ্রেণির লোকের গা-ছাড়া এবং ঢিলেঢালা মনোভাব সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘আমাদের দেশ দ্বিতীয় উচ্চতায় (সর্বোচ্চ সীমা) ওঠার মুখে রয়েছে। আরও একটা ঝটকা আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে গা-ছাড়া মনোভাব একেবারেই কাম্য নয়। প্রত্যেক দিন বাজার-দোকানে বেরনো বন্ধ করতে হবে।’’ হুগলি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করতে যা করা দরকার, তা করতে হবে।’’

হুগলিতে করোনা সংক্রমণের প্রথম রিপোর্ট মেলে গত ২৯ মার্চ। এর পর থেকে সংক্রমণ বেড়েছে ঢিমে তালে। প্রথম দিকে চন্দননগর, শ্রীরামপুর-সহ কয়েকটি শহরে সংক্রমণ ছড়ায়। পরে করোনার থাবা পড়ে খানাকুল, সিঙ্গুর, হরিপাল, জাঙ্গিপাড়া-সহ বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায়। আক্রান্তের সংখ্যা হাজার পেরোয় ৯৪ দিনে, গত ৩০ জুন। তখন প্রশাসনের আধিকারিকদের দাবি ছিল, আক্রান্তদের অধিকাংশই রাজ্যে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিক।

জুলাই মাস পড়তেই করোনার ব্যাটে ফুলঝুরি ছুটতে শুরু করে। সংক্রমণ দু’হাজারের গণ্ডি পেরোয় ১৯ জুলাই। ওই দিনের সরকারি তথ্য বলছে, তখন মোট সংক্রমিত ছিলেন ২,০৪৩ জন। পরবর্তী নয় দিনে সংক্রমিতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়ায়। করোনা তথ্য বলছে, গত দশ দিনের মধ্যে পাঁচ দিন একশোর বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন।  বাকি পাঁচ দিন সেই সংখ্যা ঘোরাঘুরি করেছে ৭৪ থেকে ৮৭-র মধ্যে। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে জেলায় অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ৯০৫। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২,১২২। মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জনের।

পুলিশ এবং প্রশাসনের অন্দরে করোনা হানা দেওয়ায় সরকারি আধিকারিকদের চিন্তা বেড়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানা, মহকুমাশাসকের দফতর, পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েত-সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে সংক্রমিতের হদিস মিলেছে। শুধু শ্রীরামপুর থানাতেই আক্রান্তের সংখ্যা ১৬। সংক্রমণের ভয়ে বিভিন্ন পঞ্চায়েত-সহ নানা

দফতর বন্ধ রাখা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে চন্দননগরের মহকুমাশাসকের দফতরের এক আধিকারিক, একটি পুরসভার এক বিদায়ী কাউন্সিলর, একটি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মারা গিয়েছেন। সংক্রমিত পুলিশকর্মীদের সুবিধার জন্য হুগলি জেলা (গ্রামীণ) পুলিশের তরফে বিভিন্ন থানায় এবং পুলিশ লাইনে ‘সেফ হাউস’ খোলা হয়েছে। সংক্রমণ রুখতে কিছু জায়গায় স্থানীয় ভাবে লকডাউন বলবৎ হয়েছে।

সরকারি আধিকারিকেরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে সব পদক্ষেপই করা হচ্ছে। উপসর্গযুক্ত রোগীদের জন্য জেলায় তিনটি কোভিড হাসপাতাল রয়েছে। উপসর্গহীন বা সামান্য উপসর্গ রয়েছে, এমন রোগীদের জন্য পাঁচটি ‘সেফ হাউস’ তৈরি হয়েছে। সেখানে প্রায় সাড়ে ছ’শো শয্যা রয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতার উপরে জোর দিচ্ছেন প্রশাসনের কর্তারা। তাঁরা বলছেন, সাধারণ মানুষ কতটা সচেতন হবেন, তাঁর উপরেই নির্ভর করছে কোথায় থামবে করোনা।

(চলন্ত গড় বা মুভিং অ্যাভারেজ কী: একটি নির্দিষ্ট দিনে পাঁচ দিনের চলন্ত গড় হল— সেই দিনের সংখ্যা, তার আগের দু’দিনের সংখ্যা এবং তার পরের দু’দিনের সংখ্যার গড়। উদাহরণ হিসেবে—পশ্চিমবঙ্গে দৈনিক নতুন করোনা সংক্রমণের লেখচিত্রে ১৮ মে-র তথ্য দেখা যেতে পারে। সে দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ছিল ১২৮। কিন্তু  সে দিন নতুন আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ছিল ১৪৮। তার আগের দু’দিন ছিল ১১৫ এবং ১০১। পরের দুদিনের সংখ্যা ছিল ১৩৬ এবং ১৪২। ১৬ থেকে ২০ মে, এই পাঁচ দিনের গড় হল ১২৮, যা ১৮ মে-র চলন্ত গড়। ঠিক একই ভাবে ১৯ মে-র চলন্ত গড় হল ১৭ থেকে ২১ মে-র দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যার গড় পরিসংখ্যানবিদ্যায় দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ সহজ ভাবে বোঝার জন্য এবং স্বল্পমেয়াদি বড় বিচ্যুতি এড়াতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়)

 

(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও। 

• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন