এলাকার চাষিরা শেষবার ঋণ পেয়েছিলেন ২০১২ সালে। দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় ২০১৩ সাল থেকে তালা বন্ধ পড়ে রয়েছে আরামবাগের নৈসরাই গ্রামের দ্বারকেশ্বর কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি। টানা সাত বছর ধরে সমবায় সমিতির পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চাষিদের ভরসা এখন মহাজন। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আলু এবং বোরো চাষ করতে হচ্ছে তাঁদের। সমবায় দফতরের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগে ক্ষুব্ধ চাষিরা।

ব্লক সমবায় দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে সরকারি সহায়ক মূল্যে আলু কেনায় মাস্টাররোলে ভুয়ো চাষির নাম তোলার অভিযোগ ওঠে। ২০১২ সালের গোড়া থেকে সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতির তৎকালীন বাম পরিচালন কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৎকালীন জেলা সমবায় সমূহের সহকারী নিবন্ধকের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৩ সালের জুন মাসে গ্রেফতার করা হয় দ্বারকেশ্বর কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির সম্পাদক এবং এক কর্মকর্তাকে। সমবায়ের সমস্ত নথি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে। তখন থেকেই সমবায়টি বন্ধ।

তিরোল পঞ্চায়েতের নৈসরাই, কীর্তিচন্দ্রপুর, সাহালালপুর এবং পারআদ্র্রা গ্রাম নিয়ে সমিতিটির পরিষেবা এলাকা। সদস্য ছিলেন প্রায় ২০০ জন চাষি। সমিতি বন্ধ থাকায় ওই চাষিদের সিংগভাগই মহাজনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন। নৈসরাই গ্রামের মীর সরফরাজ হোসেনের অভিযোগ, “ব্লক এবং জেলা সমবায় দফতরে বারবার সমবায়টি চালুর আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু কিছুই তো হল না।’’ আর এক চাষি কীর্তিচন্দ্রপুরের মির চঞ্চলের বক্তব্য, “ঘটা করে সমবায় সপ্তাহ পালন করছে রাজ্য সরকার। মন্ত্রী সমবায় আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে বক্তৃতা দিচ্ছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। আর এ দিকে বন্ধ সমবায়টি চালু করা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই।’’ সাহালালপুরের শেখ মনসুর বলেছেন, “কৃষি ঋণের অভাবে আলু এবং বোরো ধানের এলাকা কমাতে হচ্ছে। ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছি।”

চাষিদের সমস্যার কথা স্বীকার করে আরামবাগ ব্লক সমবায় পরিদর্শক সুজন দে জানান, সমিতিটি খোলার চেষ্টা যে হয়নি তা নয়। কিন্তু সমবায় খোলার ক্ষেত্রে প্রাথমিক শর্ত হল, সমিতির নির্বাচিত বোর্ড থাকা দরকার। সেই বোর্ডে আসতে হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের খেলাপি ঋণ থাকা চলবে না। এছাড়াও ২০১৩ সাল থেকে যে অডিট হয়নি সেই দায়িত্বও নিতে হবে। এইসব দায়িত্ব নেওয়ার লোক না পাওয়াতেই সমবায়টি নতুন করে খোলায় সমস্যা হচ্ছে।

জেলা সমবায় সমূহের সহকারী নিবন্ধক শোভন দাস বলেন, “বন্ধ সমবায়টি খুলতে গেলে সেখানকার চাষিদের সুবিধার কথা জানিয়ে গণস্বাক্ষর সম্বলিত আবেদন করতে হবে। এখনও তেমন কোনও আবেদন আসেনি। আবেদন করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বকেয়া, অডিট-সহ প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণেরও বন্দোবস্ত করতে হবে।”