অনেক তৃণমূল নেতাই বেপাত্তা, তালা কার্যালয়ে
শহরের কিছু তৃণমূল নেতা এবং কাউন্সিলর এলাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আঁচ করে অন্যত্র গা ঢাকা দিয়েছেন। 
BJP

দখল: তৃণমূল কার্যালয়ে টাঙানো হয়েছে বিজেপি পতাকা। আরামবাগের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে। নিজস্ব চিত্র

ভোট পরবর্তী হাতাহাতি কিছুতেই থামছে না হুগলির বিভিন্ন এলাকায়। 

শনিবার রাতে গোঘাটের বেঙ্গাই, মথুরা, রঘুবাটি-সহ কয়েকটি গ্রামে তৃণমূল কর্মীদের ঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। গোঘাট থানা মোড় সংলগ্ন কমলবাটি গ্রামে বোমাবাজির অভিযোগও ওঠে। যদিও পুলিশ গিয়ে পোড়া এবং না ফাটা কয়েকটি গাছ বোমা ছাড়া কিছু পায়নি। পুলিশ জানায়, স্থানীয় এলাকায় পুজো উপলক্ষে ওই বোমা ফাটানো হয়েছিল। তবে ভাঙচুরের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।  

এ দিন আরামবাগে অবশ্য নতুন কোনও অশান্তির অভিযোগ ওঠেনি। তবে শহরের কিছু তৃণমূল নেতা এবং কাউন্সিলর এলাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আঁচ করে অন্যত্র গা ঢাকা দিয়েছেন। 

যেমন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিমাংশু মালিক বৃহস্পতিবার ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর শুক্রবার সকাল থেকে বেপাত্তা। হিমাংশু মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলেন, “এলাকায় আতঙ্ক আছে ঠিকই, তবে ভয়ে পালাইনি। ডাক্তার দেখাতে তারকেশ্বরে আছি।” যদিও আরামবাগ থেকে তারকেশ্বর ট্রেনে মাত্র ৪০ মিনিটের পথ।

তৃণমূলের অধিকাংশ দলীয় কার্যালয়গুলোতেও দেখা মিলছে না কারও। তালাবন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে কার্যালয়গুলি। 

মহকুমা জুড়ে বিজেপির উত্থান নিয়ে আতঙ্কের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তৃণমূলের আরামবাগ ব্লক সভাপতি তথা পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী। তিনি বলেন, “অঞ্চলগুলিতে বিজয় মিছিল করছে বিজেপি। পাশাপাশি হুমকি, দলীয় কার্যালয় দখল করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।”

গোঘাটের বিধায়ক মানস মজুমদার বলেন, “সিপিএমের দুষ্কৃতীরাই রাতারাতি বিজেপি হয়ে গিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে।”

আরামবাগ সিপিএমের এরিয়া সম্পাদক পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের ভোট বিজেপিতে পড়েছে, এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। মানুষ তৃণমূলের লুঠ ও অত্যাচার রুখতে স্বাধীনভাবে পথ বেছে নিয়েছেন। যাঁরা হামলা করছেন, তাঁদের গায়ে তো সিপিএমের ছাপ নেই। সেই দায়িত্ব আমরা নেব কেন? আমাদের দলের কেউ ওই সব কাজে যুক্ত থাকলে সেই দায় আমাদের।’’ 

বিজেপির আরামবাগ জেলা সম্পাদক বিমান ঘোষ বলেন, “কারা এ সব ঘটাচ্ছে তা আমাদের জানা নেই।  আমাদের কর্মী-সমর্থকরা কোথাও কোন অশান্তির সঙ্গে যুক্ত নয়। এ রকম ঘটলে পুলিশ ব্যবস্থা নিক।”

রবিবার সন্ধ্যায় আরামবাগের রামনগর বাঁধপট্টি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ড্রামে রাখা ৯টি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাড়িটি স্থানীয় তৃণমূল নেতা সৌগত দত্ত ওরফে বেচা দত্তর। ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এলাকায় বোমাবাজি-সহ সন্ত্রাসের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসীরা।  পুলিশ জানায়, অভিযুক্তর খোঁজে তল্লাশি চলছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সৌগত বলেন, “এটা যড়যন্ত্র। বিজেপি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তুলছে।” আরামবাগ তৃণমূলের ব্লক সভাপতি স্বপন নন্দী বলেন, “বিজেপি মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে আমাদের নেতা-কর্মীদের।” আর বিজেপির আরামবাগ জেলা সভাপতি বিমান ঘোষের দাবি,  ‘‘পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিক।”

রবিবার সন্ধ্যায় তারকেশ্বরের সাহাপুরে এক তৃণমূল সমর্থককে মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেিপ কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।