মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাফাইকর্মীদের বিক্ষোভের জেরে মঙ্গলবার ফের উত্তেজনা ছড়াল হাওড়া পুরসভায়। এ দিন হাওড়ার পুর কমিশনারের সঙ্গে প্রথমে বৈঠকে বসেন বিক্ষোভকারীরা। সেই বৈঠকে দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির কোনও আশ্বাস না পাওয়ায় পুরসভার সামনে মহাত্মা গাঁধী রোড ও ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র রোডে বসে পড়ে রাস্তা অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। প্রায় আধ ঘণ্টা অবরোধের ফলে এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ অবরোধকারীদের বুঝিয়ে তুলে দিলে তাঁরা ফের পুর কমিশনারের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীরা জানান, দাবি মতো মজুরি বৃদ্ধি না করা হলে সাফাইয়ের কাজ বন্ধ করে দেবেন তাঁরা।

এ দিকে, ৪১৯ জন অস্থায়ী কর্মীর প্রায় ন’মাস বেতন না হওয়ায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছিল পুর কর্তৃপক্ষকে। সেই সমস্যার সমাধান হতেই অস্থায়ী মহিলা কর্মীরা নিয়মিত বেতন এবং মাসে অন্তত ২০ দিন কাজের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরে ফের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পুর কমিশনারের ঘরের সামনে কয়েক দিনের ব্যবধানে দু’বার বিক্ষোভ দেখান সাফাইকর্মীরা। শেষ বারে পুর কমিশনার তাঁদের কথা বলার জন্য ৩০ তারিখ সময় দেন। সেই মতো এ দিন পাঁচশো সাফাইকর্মী পুর ভবনে জমায়েত হন। 

পুরসভা সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে সাফাইকর্মীদের পুর কমিশনার জানিয়ে দেন, প্রশাসকমণ্ডলীর সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি রাজ্য সরকারকে জানানো হবে। রাজ্য অনুমতি দিলে তবেই এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তাঁরা। এর পরেই পুরসভা থেকে বেরিয়ে একদল মহাত্মা গাঁধী রোডে বসে পড়েন। আর এক দল জেলাশাসকের বাংলোর সামনে রাস্তা অবরোধ করেন। প্রায় আধ ঘণ্টা অবরোধের পরে পুলিশ তাঁদের 

তুলে দেয়। তখন তাঁরা পুর কমিশনারের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভের পরে পুর কমিশনার তাঁদের সঙ্গে পরের মাসে ফের আলোচনায় বসার আশ্বাস দেন। তার পরেই সাফাইকর্মীরা ফিরে যান।

পুর কমিশনার তথা প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন বিজিন কৃষ্ণ এ দিন বলেন, ‘‘হাওড়া পুরসভা একা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কারণ, তখন অন্য পুরসভার সাফাইকর্মীরাও বেতন বৃদ্ধির দাবি তুলবেন। তাই আমরা রাজ্য সরকারের মতামত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। উত্তর এলেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’