ভদ্রকালী দত্ত পাড়া লেনে পুকুরের একাংশ বুজিয়ে নির্মাণের অভিযোগের ভিত্তিতে কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। 

মঙ্গলবার শ্রীরামপুরের মহকুমাশাসক তনয় দেব সরকারের নির্দেশে সরকারি আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন উত্তরপাড়া পুরসভা, বিএলআরও দফতরের আধিকািরকরাও। মহকুমা শাসক বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। পুকুর বুজিয়ে নির্মাণের ঘটনায় নিশ্চিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

উত্তরপাড়ার দত্ত পাড়া লেনে একটি পুরনো কারখানা লাগোয়া বাড়ি ছিল। সেই জমিতেই ছিল মোট দুটি পুকুর। পুরনো বাড়ি-সহ কারখানা, দুটি পুকুর লাগোয়া কয়েক বিঘে জমি স্থানীয় এক ঠিকাদার কিনে নেন। সেখানেই নির্মাণের কাজ শুরু হয় বেশ কয়েক মাস আগে। দুটি পুকুরের মধ্যে একটি ১২ কাঠার। অভিযোগ উঠেছে, সেই পুকুরটিরই একাংশ বুজিয়ে ফেলে নির্মাণ করা হয়েছে।

 এর আগেও ওই একই জমিতে পুকুর বোজানোর অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় ঠিকাদাররা পুরো জমিটিই টিন দিয়ে ঘিরে ফেলেছিলেন। সেই সময় স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরসভা নির্মাণ বন্ধ করে দেয়। ফের আবার ওই জমিতেই পুকুর বোজানোর অভিযোগ উঠেছে। 

অবশ্য এই বিষয়ে উত্তরপাড়ার বাসিন্দা পরিবেশ কর্মী শশাঙ্ক কর বলেন, ‘‘একবার যখন ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে পুকুর বোজানোর অভিযোগ ওঠেছিল, তখন ফের কী করে তাঁদের আবাসনের অনুমতি পুর কর্তৃপক্ষ দিলেন? কেনই বা ওই প্রোমোটারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হল না? আইন অনুয়ায়ী কোনও শিল্পের জমিতে আবাসন নির্মাণ করা যায় না।’’ 

পুরসভা সূত্রের খবর, ওই জমিতে পুকুর বোজানোর অভিযোগ পেয়েই পুর কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর দীর্ঘদিন ওই আবাসনের কাজ বন্ধ ছিল। ফের ওই আবাসন নির্মাতা সংস্থার তরফে পুকুরটি রেখেই সেখানে আবাসন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়। 

এই বিষয়ে পুরপ্রধান দিলীপ যাদব বলেন, ‘‘আধিকারিকরা প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছেন, একটি পুকুরের একাংশে নির্মাণ করা হয়েছে। মহকুমাশাসক ও বিএলআরও দফতরের তরফে যে তদন্ত চলছে তার রিপোর্ট পেলেই আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করব।’’ ঠিকাদার সুশীল সিংহ বলেন, ‘‘ওই পুকুর বাদ দিয়েই নির্মাণ করা হবে।’’