টেমসের পাড়ের উত্তাপ এসে পৌঁছেছে গঙ্গাপাড়েও। আইপিএল শেষ হতেই আমবাঙালি মজেছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে।

সাউদাম্পটনে প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিয়ে ক্রিকেট-বুভুক্ষুদের উৎসাহ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বিরাট-বাহিনী। এর মধ্যেই ক্যালেন্ডারে হাজির জামাইষষ্ঠী। জামাইদের রসনা তৃপ্ত করতে থলে হাতে বাজারমুখী শ্বশুর-শাশুড়িরা। ইলিশ পাতুড়ি থেকে গলদা চিংড়ি বা খাসির মাংস, আম, দই—সবই থাকবে। তবে পরিপাটি করে সাজানো পাতে বিশ্বকাপের ছোঁয়া থাকবে না, তা কি হয়!

অতএব, বিশ্বকাপের রেপ্লিকা থেকে ব্যাট, বল, উইকেট— জামাইআদরে সবই চিবিয়ে খেতে পারেন আদরের বাবাজীবন। সবই ক্ষীরের তৈরি।

শ্রীরামপুরের বটতলার একটি দোকানের শো-কেসে শোভা পাচ্ছে ক্রিকেটের হরেক কিসিমের উপকরণের আদলে ক্ষীরের মিষ্টি। নানা আকারের। নানা দামের। দোকানের মালিক সুশান্ত কর্মকার জানান, মিষ্টির প্রধান উপকরণ ক্ষীর। তাতে বিভিন্ন ধরের খাবারের রং ব্যবহার করা হয়েছে। রেপ্লিকার ধরণ পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে ছোট এলাচ, বড় এলাচ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে ব্যাট, বল, বেল-সমেত উইকেটের সেটও পাওয়া যাচ্ছে। রয়েছে খেলোয়াড়ের মূর্তি। সবুজ ক্রিজে ব্যাট হাতে ক্ষীরের ব্যাটসম্যান। 

সুশান্ত বলেন, ‘‘৭০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকার মিষ্টি রয়েছে। কম দামি মিষ্টিই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে জামাইষষ্ঠীতে না হোক, বিশ্বকাপের বড় রেপ্লিকা, ব্যাট-বল-উইকেট বিয়েবাড়ির তত্ত্ব হিসেবে অর্ডার পাচ্ছি। মনে হচ্ছে ভারত যত এগোবে, তত্ত্বে এমন মিষ্টির চাহিদা তত বাড়বে।’’

রিষড়ার বাঁশতলায় জিটি রোডের ধারে নামি একটি মিষ্টির দোকানেও লাল ডিউস বলের আদলে সন্দেশ মিলছে। উপরে আপেল-লাল রং রং। ভিতরে থাকছে আপেলের জ্যাম, নাটস। দোকানের কর্ণধার অমিতাভ দে জানান, শুধু বিশ্বকাপই নয়, সদ্যসমাপ্ত ভোটের আবহের কথা মাথায় রেখেও তাঁরা মিষ্টি তৈরি করেছেন। জামাই তৃণমূল সমর্থক হলে গ্রিন ম্যাঙ্গো, সিপিএমকে পছন্দ করলে স্ট্রবেরি আর বিজেপি ঘেঁষা হলে কেশর রসগোল্লা। মোহিনী সন্দেশ, লবঙ্গলতিকা, চিত্রকূট, বালুসাই, ক্ষীরের চপ, কালোজাম, ল্যাংচার মতো চিরাচরিত মিষ্টিও হাজির থাকছে।