সকাল থেকেই পচা গন্ধে টিঁকতে পারছিলেন না গোটা মহল্লার বাসিন্দারা। কোথা থেকে আসছে সেই গন্ধ তা সন্ধান করতে বেরিয়ে মহল্লার কয়েক জন যুবক থমকে দাঁড়িয়ে যান ৩৯ নম্বর ঘরের সামনে। কোনও মতে বন্ধ জানালা খুলতেই তাঁরা দেখলেন, ভিতরে গলা কাটা অবস্থায় পরে রয়েছেন ওই ঘরেরই বাসিন্দা বছর পঞ্চান্নের জাহাঙ্গির খান!

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে বেলুড় স্টেশন রোডের মিঞা মহল্লায়। খবর পেয়ে বেলুড় থানার পুলিশ গিয়ে পচাগলা দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। স্থানীয় মহাদেব জুট মিলের কর্মীদের থাকার জন্যই দীর্ঘ দিন আগে তৈরি হয়েছে ওই কোয়াটার্স। দু’টি তলা মিলিয়ে প্রায় ৭০টি এক কামরার ঘর রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দীর্ঘ দিন ধরেই ওই জুট মিলে কাজ করেন জাহাঙ্গির। বিহারের মোতিয়ারি জেলায় পরিবার থাকলেও কাজের জন্য বেলুড়ে একাই থাকতেন তিনি। মাস তিনেক আগে তাঁর পেটের টিউমার অস্ত্রোপচার হয়েছিল। এর পর থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিলেন জাহাঙ্গির। প্রতিবেশীরা জানান, পুজোর ছুটিতে বিহারে গিয়েছিলেন তিনি। সপ্তাহখানেক আগে ফিরে আসেন। এর পর থেকেই মনমরা হয়েছিলেন জাহাঙ্গির।

স্থানীয়েরা জানান, দু’ দিন আগে বিকেলে তাঁকে ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তার পরে আর কোনও খোঁজ ছিল না জাহাঙ্গিরের। কোথাও গিয়েছেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ ছিল প্রতিবেশীদের মধ্যেও। এক প্রতিবেশী মহম্মদ ফারুক জানান, এ দিন সকালে পচা গন্ধ বেরতেই তাঁরা কয়েক জন মিলে সব ঘরে খোঁজ করতে শুরু করেন। তখনই জাহাঙ্গিরের ঘরের সামনে এসে দেখা যায় সেখান থেকেই গন্ধ আসছে। ঘরের জানালা ও দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। এর পরে কোনও মতে বন্ধ জানালা খুলতেই দেখা যায় এক কোণে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছেন জাহাঙ্গির। রক্তও জমাট বেঁধে কালো হয়ে গিয়েছে। মেঝেতে পড়ে রয়েছে পাট কাটার ছুরি।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে দেহটি উদ্ধার করে। নজরে আসে কিছু দূরে মেঝেতে চক দিয়ে হিন্দিতে লেখা, ‘‘আমার স্ত্রীর ব্যবহারে দুঃখ পেয়েছি। আমার ছেলেরা ও স্ত্রী মিলে আমায় মেরেছে। তাই আত্মহত্যা করছি। আমার মৃত্যুর জন্য স্ত্রী দায়ী’’। পুলিশ সূত্রের খবর, ছুটিতে বিহারে গিয়ে স্ত্রীর বিবাহবর্হিভূত সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহের জেরে বচসা হয় স্বামী-স্ত্রীর। তিনি রাগারাগি করে চলে আসেন। পুলিশের অনুমান, সেই রাগারাগি থেকেই ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।