শুরু হয়ে গিয়েছে পর্যটন মরসুম। আর এই পর্যটন মরসুমের কথা মাথায় রেখেই সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। আর তার মধ্যে অন্যতম ঝড়খালি পর্যটন কেন্দ্র। এই পর্যটনকেন্দ্রকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে এলইডি স্ট্রিট লাইটের মাধ্যমে। 

ইতিমধ্যেই প্রায় ঝড়খালি পর্যটনকেন্দ্রে আলো লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই আলো গুলি জ্বলবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ দফতর।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়েছিলেন রাজ্যের পর্যটন শিল্পের উপর। পর্যটন টানতেই গত কয়েক বছরে রাজ্যের প্রায় সবকটি পর্যটন কেন্দ্রকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। বাদ যায়নি সুন্দরবনও। সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে একদিকে যেমন সরকারি হোটেল, লজগুলিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে, তেমনি বহু বেসরকারি সংস্থাকেও এই কাজে অন্তর্ভুক্তিকরণ করা হয়েছে। বাদ পড়েনি সুন্দরবনের ঝড়খালিও। ইতিমধ্যেই ঝড়খালিতে তৈরি হয়েছে ব্যাঘ্র পুনর্বাসনকেন্দ্র। যা এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। এই ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রের পাশাপাশি এখানে রয়েছে প্রজাপতি উদ্যান আর ম্যানগ্রোভের অরণ্যের সঙ্গে নদীর মেলবন্ধন।

কলকাতার সঙ্গে সুন্দরবনের একমাত্র ঝড়খালি পর্যটনকেন্দ্রেই সরাসরি সড়কপথে যুক্ত। আর সেই কারণেই এই ঝড়খালি পর্যটনকেন্দ্রে সারা বছর ধরেই পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। তবে শীতের মরসুমে পর্যটকদের সংখ্যা এক ধাক্কায় কয়েকগুন বেড়ে যায়। কিন্তু এই পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে রাস্তায় কোনও আলো না থাকার কারণে পর্যটকরা চাইলেও সন্ধ্যের পর এখানে থাকতে পারেন না। পাশাপাশি এই পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যেই রয়েছে ঝড়খালি কোষ্টাল থানা। স্থানীয় মানুষজন কোনও সমস্যা নিয়ে থানায় জানাতে এলেও যথেষ্ট সমস্যার মধ্যে পড়েন ম্যানগ্রোভ ঘেরা অন্ধকার রাস্তা দিয়ে চলাচলের জন্য। সেই সমস্যা দূর করতে বছর খানেক আগে পিডাব্লুডি ইলেক্ট্রিক্যাল দফতরের তরফ থেকে ঝড়খালি সমবায় মোড় থেকে জেটিঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় আলো লাগানোর কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি সেই কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই পিডাব্লুডির তরফ থেকে মোট সাতান্নটি বাতিস্তম্ভ লাগানো হয়েছে রাস্তায়। দ্রুত এই বাতিস্তম্ভগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য পিডাব্লুডি দফতরের তরফ থেকে বাসন্তীর বিদ্যুৎ দফতরে সংযুক্তিকরণের অর্থ ও জমা করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জ্বলে উঠবে এই স্ট্রিট লাইটগুলি। ক্যানিং মহকুমার দায়িত্বে থাকা পিডাব্লুডি ইলেক্ট্রিক্যাল দফতরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বরুণ সী বলেন, “গত প্রায় ছ’মাস ধরে কাজ চলছিল। বর্তমানে স্ট্রিট লাইটগুলি লাগানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ দফতর এগুলিতে সংযোগ দিলেই আলোগুলি জ্বলবে।’’ বাসন্তীর বিদ্যুৎ দফতরের স্টেশান ম্যানেজার রাশেদ মোমেন বলেন, “যাতে দ্রুত ওই আলোগুলিতে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া যায় সেই কাজ চলছে। আশা করা যায় কয়েকদিনের মধ্যেই সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।’’ ঝড়খালি পর্যটনকেন্দ্রে আলো লাগানোয় খুশি এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পর্যটকরা। 

ঝড়খালি ভ্রমণে আসা এক পর্যটক ঋতু রায় বলেন, “এটা সত্যিই সুখবর, সন্ধ্যা নামলে এই ঝড়খালিতে গাড় অন্ধকার নেমে আসে। রাস্তার পাশেই ম্যানগ্রোভের জঙ্গল হওয়ায় অনেকটা গা ছমছম করায় সন্ধ্যার আগেই এখান থেকে চলে যেতে হত। কিন্তু এই আলো জ্বললে রাত পর্যন্ত এই পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকরা আসা যাওয়া করতে পারবেন।’’ 

ঝড়খালি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দিলীপ মণ্ডল বলেন, “এই আলোগুলি জ্বললে একদিকে যেমন পর্যটকদের সুবিধা হবে, তেমনি এলাকার মানুষও রাতে থানায় যেতে পারবেন। আর যাঁরা এই পর্যটনকেন্দ্রে ছোট ছোট দোকান করে ব্যবসা করছেন তাঁরাও আরও বেশি লাভবান হবেন।’’