চুঁচুড়ায় ছোটদের হাতেও তরোয়াল, মুখে ‘জয় শ্রীরাম’
রামনবমীর মিছিলে ছোটদের হাতে অস্ত্র দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছিল শিশু সুরক্ষা কমিশন। সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে রবিবার চুঁচুড়ায় বিজেপির রামনবমীর মিছিলে ছোটদের হাতে দেখা গেল অস্ত্র।
Ram Navami

সশস্ত্র: চুঁচুড়ার খুদের হাতে অস্ত্র , পুলিশের সামনেই অস্ত্রের আস্ফালন উলুবেড়িয়ায় (ডানদিকে)। ছবি: তাপস ঘোষ ও সুব্রত জানা

কারও বয়স আট, কেউ বারোয় পা দিয়েছে। হাতে তরোয়াল। মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি।

রামনবমীর মিছিলে ছোটদের হাতে অস্ত্র দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছিল শিশু সুরক্ষা কমিশন। সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে রবিবার চুঁচুড়ায় বিজেপির রামনবমীর মিছিলে ছোটদের হাতে দেখা গেল অস্ত্র। মিছিলের সামনে থাকা হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় তুলে নিয়েছিলেন তির-ধনুক। গদা হাতে শামিল হন হুগলির বিজেপি সভাপতি সুবীর নাগ। আগাগোড়া সেই মিছিলের সঙ্গে চলল পুলিশ, র‌্যাফ।    

হুগলিতে রামনবমীর শোভাযাত্রা শুরু হয় শনিবার থেকে। তবে প্রথম দিন উত্তরপাড়া, চণ্ডীতলা, জাঙ্গিপাড়া বা পান্ডুয়া— কোথাও শোভাযাত্রায় অস্ত্র দেখা যায়নি। এর মধ্যে উত্তরপাড়া এবং পান্ডুয়ায় রাজ্যের শাসকদল শোভাযাত্রার আয়োজন করেছিল। বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবার অবশ্য ভোট-পর্বের মধ্যেই অস্ত্র হাতে রামনবমী পালনের ডাক দিয়েছিল।

দলের সেই নির্দেশ মতোই রবিবার চুঁচুড়ায় মিছিল করল বিজেপি। ছোট ট্রাকে তারস্বরে ডিজে বক্স বাজিয়ে সেই মিছিলটি চুঁচুড়ার শরৎ সরণি থেকে জিটি রোড ধরে হুগলির মোড় পেরিয়ে পিপুলপাতি, পাঙ্খাটুলি, ব্যান্ডেল হয়ে কেওটায় গিয়ে শেষ হয়। এই অস্ত্র-মিছিলে লকেটের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে এ দিনই কমিশনের দ্বারস্থ হন চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘‘ভোট-পর্বের মধ্যে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছেন লকেট। এতে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হয়েছে। ভোটের সময়ে ওঁদের কেন শক্তি প্রদর্শনের প্রয়োজন হল? কমিশনকে জানিয়েছি, ব্যবস্থা নেওয়া না-হলে আমরা আন্দোলনে নামব।’’

লকেট অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘‘নারীকে আরও শক্তিশালী হিসেবে দেখাতেই মিছিলে যোগদানকারীরা অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। মা দুর্গা অস্ত্র হাতেই অসুরকে বধ করেছিলেন। দেশ জুড়ে যে অশুভ শক্তি বিরাজ করছে, তা বিনাশ করাই মূল লক্ষ্য। ছোটরা আনন্দে অস্ত্র নিয়েছিল।’’ চন্দননগর কমিশনারেটের এক কর্তা জানান, অস্ত্র-মিছিলের ছবি তুলে রাখা হয়েছে।  আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরএসএসের পরিচালনায় এ দিন খন্যানের হাটতলা থেকে বৈঁচীর কোঁচমালি পর্যন্ত রামনবমীর মিছিল হয়। জিটি রোড ধরে কয়েকশো মোটরবাইক, ম্যাটাডর প্রায় ১৮ কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করে। তারস্বরে বেজেছে বক্স। মিছিলে অস্ত্র দেখা যায়নি। সিঙ্গুরে রামনবমী মহোৎসব কমিটির মিছিলেও অস্ত্র ছিল না।

উলুবেড়িয়ায় রামনবমীর মিছিলে অস্ত্র থাকবে না বলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আশ্বাসই সার হল। পরিষদের উদ্যোগে উলুবেড়িয়ার গঙ্গারামপুর থেকে কালীবাড়ি পর্যন্ত যে মিছিল হয়, তাতে কয়েকজন যুবকের হাতে তরোয়াল, কুড়ুল দেখা গিয়েছে। মিছিলটির উদ্বোধন করেন উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলের সঙ্গে কিছুটা হাঁটার পরে তাঁকে আর দেখা যায়নি। পরে তিনি বলেন, ‘‘মিছিলে কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। অস্ত্র নিয়ে মিছিল করা নিষেধ ছিল। যদি তেমন হয়, খোঁজ নেব।’’ 

 হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের এক কর্তা দাবি করেছেন, ‘‘যদি অস্ত্র নিয়ে কেউ মিছিলে থেকে থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’