মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুর থেকে স্বামীর পেনশনের টাকা নিতে ঘুসুড়ির কুলি লাইন কোয়ার্টার্সে আসা ফুলেশ্বরী দেবী খুনই হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তের পরে সে ব্যাপারে নিশ্চিত পুলিশ। 

তদন্তকারীদের দাবি, দেশের বাড়িতে সম্পত্তি নিয়ে গোলমালের জেরে ফুলেশ্বরীর ভাসুরপো তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। খুনের অভিযোগে মঙ্গলবার গভীর রাতে মৃতার ভাসুরের ছেলে দীপক দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।

স্বামীর পেনশন নিতে সপ্তাহ তিনেক আগে মালিপাঁচঘরা থানা এলাকার নস্করপাড়া রোডের কুলি লাইন কোয়ার্টার্সে স্বামীরই ভাড়া নেওয়া ঘরে ওঠেন ফুলেশ্বরী। তাঁর স্বামী সুদামা দাস হনুমান জুটমিলের কর্মী ছিলেন। দু’মাস আগে মারা যান। মঙ্গলবার দুপুরে ঘর থেকেই উদ্ধার হয় ফুলেশ্বরীর রক্তাক্ত ও প্রায় বিবস্ত্র দেহ। 

পুলিশ প্রথমে ঘটনাটিকে গরমের জেরে মৃত্যু বলে চালাতে চাইলেও যে ঘরে ওই প্রৌঢ়ার মৃতদেহ মেলে, সেখানে প্রবল ধস্তাধ্বস্তির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দাদের থেকে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছিলেন, কোয়ার্টার্সের একতলার বাসিন্দা, হনুমান জুটমিলেরই কর্মী দীপকের সঙ্গে গত কয়েক দিন ধরে তার কাকিমা ফুলেশ্বরীর অশান্তি চলছিল। সেই সূত্র ধরেই দীপককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। টানা জেরায় অভিযুক্ত নিজের অপরাধ কবুল করে।

পুলিশ সূত্রের খবর, গত সোমবার ঝড়বৃষ্টির রাতে দেশের সম্পত্তি নিয়ে ফুলেশ্বরী ও দীপকের মধ্যে তুমুল বচসা হয়। প্রতিবেশীরা জানান, দীর্ঘক্ষণ অশান্তি চলার পরে রাত ১২টা নাগাদ সব চুপচাপ হয়ে যায়। দোতলা থেকে আর কোনও সাড়াশব্দ শুনতে পাননি তাঁরা। পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে ঘরের ভেজানো দরজা খুলে উদ্ধার হয় ফুলেশ্বরীর দেহ। 

পুলিশের দাবি, ঝগড়া চলাকালীন দীপক উত্তেজিত হয়ে কাকিমার গলা টিপে শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করে। ওই প্রৌঢ়া প্রাণপণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও পারেননি। বুধবার দীপককে হাওড়া আদালতে তোলা হলে ন’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।