মুর্শিদাবাদ থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে তারকেশ্বরে এসেছিলেন শেখ মনিরুল। কাজের সূত্রে বালিগোড়িতে থাকছিলেন কয়েকদিন। সেখানেই এক খাবার দোকানের কর্মীকে দেখে সন্দেহ হয় তাঁর। খেয়ালি, সামান্য মানসিক ভারসাম্যহীন বছর তেইশের সেই যুবককে নিজের গ্রামের ছেলে বলে চিনতে পারেন মনিরুল। আর তারপরই ছ’বছরের অজ্ঞাতবাস শেষ হয়েছে রঘুনাথগঞ্জের সাহেব আলমের।

বুধবার বালিগোড়ি-২ পঞ্চায়েত প্রধানের সামনেই সাহেবকে তুলে দেওয়া হয় তাঁর দাদা মিনারুল আলমের হাতে। এতদিন সাহেব কাজ করতেন বালিগোড়ির বাসিন্দা সুভাষ প্রামাণিকের দোকানে। সুভাষ জানান, বেশ কয়েক বছর আগে গ্রামের রাস্তায় উদ্‌ভ্রান্তের মতো সাহেবকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছিলেন তিনি। নাম, নিজের বাড়ির ঠিকানা কিছুই বলতে পারেননি সাহেব। সুভাষ বলেন, ‘‘বেশ কয়েকদিন খাওয়া দাওয়া না করে দুর্বল হয়ে পড়েছিল ও। আমার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলাম। পরে ওকে আমার দোকানে কাজে লাগিয়ে দিই।’’ দোকানেই খাওয়া দাওয়া করত সাহেব।

তাঁর দাদা মিনারুল বলেন, ‘‘ছোট থেকেই খেয়ালি সাহেব। তার উপর মাঝেমধ্যেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলত। মাঝে মাঝে এ দিক সে দিক চলে যেত। কিন্তু ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সেই যে হারিয়ে গেল আর খুঁজে পেলাম না।’’ সে বার ডিসেম্বরে প্রতিদিনের মতো ঘর থেকে বেরিয়েছিল বছর সতেরোর সাহেব। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় শুরু হয় তাঁর খোঁজ। কিন্তু মেলেনি। 

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

এ দিন পঞ্চায়েত প্রধান হারাধন মজুমদার তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন। ভাইকে ফিরে পেয়ে আপ্লুত মিনারুল বলেন, ‘‘আমারা দিন আনি দিন খাই। ভাইকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। সুভাষবাবুকে যে কী বলে ধন্যবাদ জানাব! উনি না থাকলে ভাইটা আমার কোথা। ভেসে যেত!’’ সাহেব অবশ্য বিশেষ কিছু বলেননি। ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছেন পিঠে— বাড়ি ফিরতে চেয়েছেন তাড়াতাড়ি।