ঝকঝকে দোতলা ভবনে মোট দোকান ৪৮টি। বেশির ভাগ সময় ঝাঁপ বন্ধ ৪৪টিরই। ক্রেতার দেখা কমই মেলে।

সাত মাস আগে উদ্বোধন হওয়া আরামবাগ ব্লকের ‘কর্মতীর্থ’ নামে মার্কেট কমপ্লেক্সটির এটাই চেহারা।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রতি ব্লকে অন্তত একটি করে ‘কর্মতীর্থ’ নামে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করার কথা ঘোষণা করেন ২০১৪ সালের জুলাই মাস নাগাদ। বলা হয়েছিল, প্রশিক্ষণ ও অর্থসংস্থান-সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করে দেবে রাজ্য সরকার। সেখান থেকেই স্বনির্ভর গোষ্ঠী, গ্রামীণ কারিগর এবং ক্ষুদ্র-প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা নিজেদের উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রি করতে পারবেন। জেলার ১৮টি ব্লকের জন্য ২০টি ‘কর্মর্তীর্থ’ তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত খাতায়-কলমে চালু হয়েছে মাত্র আটটি। তারই একটি হয়েছে আরামবাগ ব্লকের আরান্ডি-১ পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন ধামসার মাঠে ৭৯ শতক জমিতে। প্রায় দু’কোটি টাকায় দোতলা ‘কর্মতীর্থ’টি নির্মাণ করে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। কিন্তু কোথায় ব্যবসা?

শুক্রবার সকাল ১০টা। কর্মতীর্থে খোলা মাত্র চারটি দোকান। ক্রেতা নেই। দোকানে মাথা গুঁজে বসে দোকানদার। ব্যবসা কেমন চলছে? প্রশ্ন শুনে রীতিমতো ঝাঁঝিয়ে উঠলেন চার জনের এক জন, সেলাইয়ের কাজ করা হামিরবাটি গ্রামের তিলকা মালিক, ‘‘সাত মাসে ৭০০ টাকাও আয় হয়নি। আসছি আর মেশিনের ধুলো ঝেড়ে ঘণ্টাখানেক পরে বাড়ি যাচ্ছি। খদ্দের না পেলে এ ভাবে কতদিন চলবে!” একই রকম আক্ষেপ একতলার বিদ্যুৎ সরঞ্জামের দোকানদার তন্ময় রায়েরও। তিনি বলেন, ‘‘সরকারি তরফে মার্কেটটিকে জমজমাট করার কোনও চেষ্টা নেই।’’ ঝুটো গয়নার ব্যবসায়ী টোটন সরকারের ক্ষোভ, ‘‘সারাদিন দোকান খুলে রেখে মাছি মারা ছাড়া কোনও কাজ নেই।’’

অথচ, ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পটি নির্মাণের সময়ে দোকানঘরের জন্য প্রচুর আবেদন জমা পড়ে। আবেনদকারীদের মধ্যে ৪৮ জনকে বাছাই করে তাঁদের হাতে ঘর তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু উদ্বোধনের দিন পনেরো পর থেকেই একে একে দোকানগুলির ঝাঁপ বন্ধ হতে থাকে। ছ’টি দোকান একেবারেই খোলা হচ্ছে না। বাকি ব্যবসায়ীরা মাঝেমধ্যে খোলেন। ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানিয়েছেন, শুধুমাত্র সরকারি প্রকল্পে দোকানের দখলদারি টিকিয়ে রাখতেই মাঝেমধ্যে তাঁরা দোকান খোলেন।

‘কর্মতীর্থ’টির পরিচালন সমিতির সম্পাদক তথা আরান্ডি-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শ্রীকান্ত ঘোষ বলেন, “নিয়মিত দোকান খোলার জন্য সকলকে সচেতন করা হয়েছে। নিয়মিত দোকান খুললে ক্রেতারাও আসবেন বলে আশা করি। এ নিয়ে ব্লক প্রশাসন চাপ দিক। ইতিমধ্যে বেচাকেনা কম থাকায় কর্মতীর্থ রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহনের জন্য ব্যবসায়ীপিছু মাসে যে ৫০০ টাকা ধার্য ছিল, তা কমিয়ে ব্লক প্রশাসন ২০০ টাকা করেছে।”

তবু প্রকল্পটি যে ঝিমিয়ে রয়েছে, তা স্বীকার করেছেন বিডিও বিশাখ ভট্টাচার্য। তিনি কর্মতীর্থকে সচল করতে এলাকার আনাজ এবং মাছের বাজারটিকে ওই চত্বরে আনতে চাইছেন। তাই স্থায়ী ছাউনির গড়তে ১১ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা একেবারেই দোকান খুলছেন না, তাঁদের সরিয়ে তালিকায় থাকা উদ্যোগীদের নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং স্বনিযুক্তি দফতর এবং সংখ্যালঘু দফতর থেকে ঋণ পান, সে চেষ্টা হচ্ছে। ওই ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি সমিতি গড়ে দেওয়ারও চিন্তাভাবনা চলছে।”