যানজট কাটাতে দিল্লি রোডের ডানকুনি উড়ালপুলের এক দিকের ‘লেন’ চালু করে দেওয়া হল। ওই ‘লেন’ দিয়েই দু’দিকের গাড়ি যাচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ওই সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেছে জেলা পরিষদ।

হুগলি জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওই রাস্তার নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাঁরা রাস্তার কাজ শেষ করার ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আশা করছি, দু’মাসের মধ্যেই বকেয়া সমস্ত কাজ হয়ে যাবে।’’

ডানকুনি উড়ালপুলের একটি ‘লেন’ চালু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে গাড়ি-চালকেরা। কারণ, যানজট তুলনায় কমেছে। তবে, ডানকুনি থেকে চন্দননগর পর্যন্ত ওই রাস্তার কাজ কবে শেষ হবে, এ প্রশ্ন বারবার উঠেছে। কারণ, ২০১৬ সালে রাস্তাটির ওই অংশের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বারেবারে থমকেছে কাজ।         

বস্তুত, ডানকুনি থেকে পান্ডুয়া— হুগলিতে দিল্লি রোডে়র এই ৫২ কিলোমিটার অংশকে সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। রাজ্য সড়ক (হাইওয়ে) পরিবহণ সংস্থার আওতায় থাকা এই রাস্তার কাজ শুরু করে মুম্বইয়ের দু’টি ভিন্ন সংস্থা। মোট দু’টি ভাগে কাজ শুরু হয়। ডানকুনি থেকে চন্দননগর এবং চন্দননগর থেকে পান্ডুয়া। মুম্বাইয়ের দুটি ভিন্ন সংস্থা ওই কাজ শুরু করে।

চন্দননগর থেকে পান্ডুয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণে বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাটি দীর্ঘদিন আগেই নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করে দেয়। কিন্তু জটিলতা দেখা দেয় দিল্লি রোডের বাকি অংশের কাজে। কারণ, সংশ্লিষ্ট সংস্থার অভ্যন্তরীণ সমস্যায় মাঝপথেই ওই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পরে শেষ পর্যন্ত রাজ্য সড়ক (হাইওয়ে) পরিবহণ সংস্থা সব জটিলতা কাটিয়ে অন্য একটি সংস্থাকে ওই বকেয়া কাজের বরাত দেয়। 

তারপরেও সেই কাজে গতি না-থাকার অভিযোগ উঠছিল। ডানকুনির চাকুন্দিতে ওই রাস্তার দু’ধারের এলাকাবাসী পারাপারের সুবিধার জন্য ফুট ওভারব্রিজের দাবি তোলেন। নির্মাণকারী সংস্থা জানিয়েছে, ওই দাবির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। তবে যান চলাচল চালু রেখে রাস্তা সম্প্রাসারণের কাজ করতে হচ্ছে বলে কিছু সমস্যা হচ্ছে। যানবাহনকেও অনেক জায়গায় থমকাতে হচ্ছে।

সাধারণ যাত্রী এবং গাড়ি-চালকেরা অনেক দিন ধরেই ওই সড়কে যানজট থেকে মুক্তি এবং মসৃণ যাত্রার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।