দিন চারেক আগে চন্দননগরের গোন্দলপাড়া জুটমিলে কাজ বন্ধের নোটিসকে ঘিরে তেতে উঠেছিল এলাকা। চালানো হয়েছিল ভাঙচুর। সেই ঘটনায় ধৃত দলের এক নেতাকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রবিবার ওই শ্রমিক মহল্লায় গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয়। দলের লোকজনই ওই ভাবে প্রতিবাদ জানান বলে মেনে নিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা চন্দন বর্মণ।

তবে, লকেট ওই বিক্ষোভকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল আমাকে কালো পতাকা দেখালেও লাভ হবে না। আমি অসহায় শ্রমিকদের পাশে আছি, থাকবও। ভোটের মুখে এই জুটমিল খোলা-বন্ধ নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থ দেখা হয়নি। পুরো বিষয়টি দলের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানাব।’’ জেলা তৃণমূল সভাপতি তপন দাশগুপ্ত অবশ্য লকেটের শ্রমিক মহল্লায় যাওয়াকে কটাক্ষ করেছেন। তপনবাবু বলেন, ‘‘বিজেপি প্রার্থী ওখানে গিয়ে বা দলে অভিযোগ জানিয়ে কী করবেন? বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারই তো চটের বস্তার বরাত কমিয়ে দিয়েছে। তার জেরেই চটশিল্প বেহাল। আমরা লোকসভায় বার বার প্রতিবাদ জানিয়েছি এই বিষয়ে।’’

দীর্ঘ ১১ মাস বন্ধ থাকার পরে হুগলিতে ভোটের (৬ মে) কয়েক দিন আগে মিলটি খোলে। কিন্তু সে ভাবে কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। ভোট মিটতেই ৮ মে সকালে ফের ‘সাসপেনশন অব ওয়ার্ক’-এর নোটিস পড়ে মিলের গেটে। এরপরেই তেতে ওঠে এলাকা। ফেরিঘাটে, তৃণমূলের দু’টি কার্যালয়ে এবং চন্দনবাবু-সহ দুই তৃণমূল নেতার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠে। পুলিশ বিজেপি নেতা অশোক চৌধুরী-সহ আট জনকে গ্রেফতার করে।

রবিবার সকালে অশোকবাবুর বাড়িতেই যান বিজেপি প্রার্থী। সেই সময় অবশ্য কোনও বিক্ষোভ হয়নি। লকেটের সঙ্গে ছিলেন তাঁর দাদা অরূপ এবং দলের স্থানীয় নেতারা। রাস্তায় দু’টি শ্রমিক পরিবারের দুই মহিলা সবিতা দেবী এবং যশোদা চৌধুরী বিজেপি প্রার্থীর কাছে মিল থেকে বকেয়া না-পাওয়া এবং অন্নসংস্থানের সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানান। অশোকবাবুর বাড়িতে গিয়ে সকলের পাশে থাকার আশ্বাস দেন লকেট।

ফেরার পথেই তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েন। কালো পতাকাধারীদের বেশিরভাগই ছিলেন মহিলা। লকেটের বিরুদ্ধে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। তবে, বিক্ষোভকারীদের কারও হাতে তৃণমূলের পতাকা ছিল না। পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। এরপরে চন্দননগর থানায় দিয়ে দলের ধৃত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন লকেট।