কাদায় পড়ে একটি কালো বড় ব্যাগ। পাশে ছোট আর একটি ব্যাগ। দু’টির মাঝে কালো চুলে ঢাকা কিছু একটা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দেখে, কালো চুলে ঢাকা বস্তুটি আসলে এক তরুণীর কাটা মাথা। আর ব্যাগের ভিতরে রয়েছে শরীরের বিভিন্ন কাটা অংশ। বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটেছে বালিতে। স্থানীয় থানার পাশাপাশি তদন্তে নেমেছেন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারাও।

পুলিশ সূত্রের খবর, বালিখাল সংলগ্ন জেটিয়া ঘাটের পাশেই সরু গলির ভিতরে রয়েছে আরও একটি ছোট ঘাট। স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়া বাইরের কেউই ঘাটটি সে ভাবে চেনেন না। রাতেও জায়গাটি নির্জন থাকে। এ দিন সকাল ১০টা নাগাদ গঙ্গায় তখন ভাটা চলছিল। কয়েক জন ঘাটে এসে দেখেন, সিঁড়ি থেকে ১০-১৫ ফুট দূরে কাদামাটির মধ্যে ওই জিনিসগুলি পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মায়া শর্মা বলেন, ‘‘কালো চুলে ঢাকা বস্তুটি মানুষের মাথা হতে পারে ভেবেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।’’

পুলিশ জানায়, ওই কাটা মাথাটি থানায় এনে তা থেকে নমুনা সংগ্রহের পরে সেটি ধোয়া হয়। অজ্ঞাতপরিচয় নিহত তরুণীর বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। মাথায় সিঁদুরের চিহ্ন রয়েছে। প্রায় দেড় ফুট লম্বা ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, বড় নীল পলিথিন ব্যাগে রয়েছে তরুণীর শরীরের ঊর্ধ্বাংশের অসংখ্য খণ্ড। যদিও হাত ও শরীরের নীচের অংশ মেলেনি। আর ছোট কাপড়ের ব্যাগটির ভিতরে মিলেছে তিনটি পাপোষ, তিনটি চপার, একটি ছোট পেনসিল কাটার এবং একটি মাঝারি আকারের ছুরি ও দস্তানা। ওই ব্যাগের ভিতরেও শরীরের ভিতরের কিছু অংশ মিলেছে। ব্যাগ দু’টির পাশ থেকে কাদা মাখা নীল জিন্‌স, কালো জামা ও গেঞ্জি উদ্ধার হয়েছে। 

পুলিশের অনুমান, বুধবার সকাল বা দুপুরের দিকে ওই তরুণীকে প্রথমে খুন করা হয়। তার পরে শরীরের বিভিন্ন অংশ কাটা হয়। আক্রোশ মেটাতেই সম্ভবত এলোপাথাড়ি ভাবে দেহটি কাটা হয়েছে। থুতনির নীচ থেকে মাথাটি কাটা হলেও মুখটি বিকৃত করা হয়নি। বুধবার রাত ১টা ৫৭ মিনিট থেকে গঙ্গায় ভাটা শুরু হয়েছিল। এ দিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ফের জোয়ার আসে। এখন প্রশ্ন, ব্যাগ দু’টি কি গঙ্গায় ভেসে এসেছে, না কেউ এসে ফেলে গিয়েছে?

সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যেমন এক) ঘাটে এসে হয়তো ব্যাগটি ছুড়ে ফেলা হয়েছে কাদামাটির মধ্যে। ভাবা হয়েছিল, পরে জোয়ার এলে তা ভেসে যাবে। দুই) ঘাটের কাছেই ব্যাগ দু’টি রেখে চলে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। কেউ সেটি খুলে ভিতরে কাটা মাথা দেখতে পেয়ে ভয়ে কাদায় ছুড়ে ফেলেছিল। তবে গঙ্গায় ভেসে আসার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। কিন্তু সেখানেও আছে ধোঁয়াশা। কারণ, জিনিসপত্রে ভরা ব্যাগ এবং কাটা মাথাটি জলে ছুড়ে ফেললে তা ভেসে আসার থেকে ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আবার গঙ্গায় ভেসে এলে ব্যাগের ভিতরেও জল থাকত।

পুলিশ সূত্রের খবর, ওই ঘাট সংলগ্ন এলাকায় সিসি ক্যামেরা নেই। তবে বুধবার রাতে বাইরের কেউ ওই ঘাটের দিকে গিয়েছিল কি না, তা জানতে বালিখাল চত্বরে থাকা কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।