ঘরের ভিতরে প্লাস্টিকের সবুজ চেয়ার উল্টে পড়ে রয়েছে। তার পাশেই উল্টে রয়েছে অ্যালুমিনিয়ামের বালতি। মেঝেতে পাতা বিছানা লন্ডভন্ড। বিছানার উপরে প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় চিৎ হয়ে পড়ে আছেন এক মহিলা। তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে ঠোঁটের পাশ দিয়ে গড়িয়ে এসেছে। চিবুকে ক্ষতচিহ্ন। গোটা মুখে, দেহে আঁচড়-কামড়ের দাগ।

মঙ্গলবার দুপুরে হাওড়ার ঘুসুড়ি নস্করপাড়া রোডের কুলি লাইন কোয়ার্টার্সের দোতলার একটি ঘর থেকে এমন অবস্থায় উদ্ধার হল বছর চল্লিশের এক মহিলার দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম ফুলেশ্বরী দেবী। তিনি মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরের বাসিন্দা। প্রায় আট বছর আগে ফুলেশ্বরীর ছেলে সুরেশ্বর দাস নিখোঁজ হয়ে যান। স্বামী সুদামা দাস ঘুসুড়ির হনুমান জুটমিলের কর্মী ছিলেন। মাস দু’য়েক আগে তিনিও মারা গিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, তিন সপ্তাহ আগে স্বামীর পেনশনের টাকা তুলতে এসেছিলেন ফুলেশ্বরী। একাই ছিলেন কুলি লাইনে নিজেদের ঘরে। তার পরে এ দিন সকালে তাঁর মৃতদেহ মেলে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অবশ্য এই রহস্য-মৃত্যুকে খুন বলতে রাজি নয়। তাদের দাবি, ওই মহিলা তীব্র গরমেও মারা যেতে পারেন। সারা ঘরে ধস্তাধস্তির চিহ্ন থাকলেও তদন্তকারীদের দাবি, ময়না-তদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দোতলায় যে ঘরে থাকতেন ফুলেশ্বরী, তার পাশের ঘরগুলি ফাঁকাই ছিল। একতলায় সপরিবার থাকেন মৃতার ভাসুরের ছেলে দীপক দাস। তিনিও হনুমান জুটমিলের কর্মী।

ওই মহিলার প্রতিবেশী, কুলি লাইনের বাসিন্দা বাবলি দেবী বলেন, “ফুলেশ্বরী এ দিন দীর্ঘক্ষণ ঘরের দরজা খোলেননি। বেলা প্রায় ১২টা নাগাদ প্রতিবেশী একটি বাচ্চা আমাকে বিষয়টি জানায়। ভেজানো দরজা খুলে ওই দৃশ্য দেখে চমকে উঠি।’’ মৃতার ভাসুরের ছেলে দীপক জানিয়েছেন, ফুলেশ্বরীর কাছে রাতে মাঝেমধ্যে অচেনা লোকজন আসতেন। তবে সোমবার রাতে কেউ এসেছিলেন কি না, তা জানেন না তাঁরা। গোটা ঘর কী ভাবে লন্ডভন্ড হল, সেটাও তাঁরা বুঝতে পারছেন না।

এ দিকে, কুলি লাইনে এমন ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। বিলাসপুরে ফুলেশ্বরীর আত্মীয়দের খবর দেওয়া হয়েছে। ময়না-তদন্তের পরে তাঁদের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হবে।